দেশে সড়ক দুর্ঘটনা যেন প্রতিদিনের এক নির্মম বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যস্ত মহাসড়ক থেকে শুরু করে নগরীর অলিগলি—কোথাও নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা মিলছে না। বেপরোয়া গতি, চালকের অসতর্কতা, অতিরিক্ত ওভারটেকিং, মোবাইল ফোন ব্যবহার, ঘুম বা ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি, সড়কের অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার মতো নানা কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের পাশাপাশি পরিবার ও রাষ্ট্রের ওপর তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়ন কিংবা শাস্তি বাড়ালেই হবে না। চালক ও পথচারীদের সচেতনতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিকে সড়ক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্মার্ট ট্রাফিক ক্যামেরা, জিপিএস ট্র্যাকিং, গতিসীমা শনাক্তকারী সেন্সর, চালকের আচরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় জরুরি ব্রেকিং এবং দুর্ঘটনা শনাক্তকারী প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নজরদারি

সড়ক নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এআই-চালিত ক্যামেরার মাধ্যমে সড়কে যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে।

স্মার্ট ক্যামেরা শুধু গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্ত করবে না, বরং কোন গাড়ি অতিরিক্ত গতিতে চলছে, কোন গাড়ি বিপজ্জনকভাবে লেন পরিবর্তন করছে, কোথায় উল্টো পথে গাড়ি চলছে কিংবা কোনো চালক সিগন্যাল অমান্য করছে এসব তথ্যও বিশ্লেষণ করতে পারবে।

এতে প্রতিটি মোড়ে সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রয়োজন কমবে। ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে পাঠানো হলে সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ শনাক্ত করতে পারবে। পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াও সহজ হবে।

আরো পড়ুন: যেসব আইটি প্রশিক্ষণ বদলে দেবে জীবন

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ অতিরিক্ত গতি। বিশেষ করে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে বেশি গতিতে যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বেড়ে যায়। অনেক সময় চালক গতি নিয়ন্ত্রণে রাখলেও দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় ক্লান্তি বা তাড়াহুড়ার কারণে আবার অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান।

এ ক্ষেত্রে গতি শনাক্তকারী ক্যামেরা ও সেন্সর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে স্পিড ক্যামেরা বসিয়ে গাড়ির গতি পরিমাপ করা যায়। নির্ধারিত সীমার বেশি গতিতে চললে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বর সংরক্ষণ করে সতর্কবার্তা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে।

এ ছাড়া গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে GPS-ভিত্তিক গতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হলে একটি গাড়ি কোথায় কত গতিতে চলছে, তা নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দেখা সম্ভব হবে।

চালকের ঘুম ও ক্লান্তি শনাক্ত

দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে চালকের মধ্যে ক্লান্তি ও তন্দ্রাভাব তৈরি হওয়া দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে রাতের বাস ও ট্রাক চলাচলের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি। একজন চালক কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘুমিয়ে পড়লেও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আধুনিক গাড়িতে চালকের চোখ ও মুখের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যামেরাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। চালকের চোখ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে কিংবা মাথা ঝুঁকে পড়লে সিস্টেম সতর্ক সংকেত দিতে পারে। প্রয়োজনে গাড়ির অডিও অ্যালার্ম চালককে জাগিয়ে তুলতে পারে।

দেশের দূরপাল্লার গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে ক্লান্তিজনিত দুর্ঘটনা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারে নজরদারি

গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার চালকের মনোযোগ নষ্ট করে। কয়েক সেকেন্ডের অসতর্কতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই চালকের মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা কমাতেও প্রযুক্তির ব্যবহার করা যেতে পারে।

ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে চালক গাড়ি চালানোর সময় ফোন ব্যবহার করছেন কি না, তা শনাক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। এমন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা যেতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল

রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে যানজট ও বিশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। প্রচলিত ট্রাফিক সিগন্যাল নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী পরিবর্তিত হলেও স্মার্ট সিগন্যাল ব্যবস্থা বাস্তব সময়ের যানবাহনের চাপ বিবেচনা করে সংকেত পরিবর্তন করতে পারে।

ক্যামেরা ও সেন্সরের মাধ্যমে কোনো সড়কে গাড়ির সংখ্যা বেশি হলে সেই দিকের জন্য বেশি সময় সবুজ সংকেত দেওয়া সম্ভব। অন্যদিকে ফাঁকা সড়কে অযথা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। এতে যানজট কমার পাশাপাশি চালকদের হঠাৎ লেন পরিবর্তন, সিগন্যাল ভাঙা ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের প্রবণতাও কমতে পারে।

গাড়ির ভেতরেই নিরাপত্তা প্রযুক্তি

আধুনিক যানবাহনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। ফরওয়ার্ড কলিশন ওয়ার্নিং, অটোমেটিক ইমার্জেন্সি ব্রেকিং, লেন ডিপার্চার ওয়ার্নিং, ব্লাইন্ড-স্পট মনিটরিং এবং অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোলের মতো প্রযুক্তি চালককে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে আগেই সতর্ক করতে পারে।

সামনের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে গাড়ির সেন্সর চালককে সতর্ক করতে পারে। চালক সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে কিছু ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং ব্যবস্থাও সক্রিয় হতে পারে। ফলে দুর্ঘটনা পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও সংঘর্ষের তীব্রতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

বাংলাদেশে নতুন গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে এসব নিরাপত্তা প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং গণপরিবহনে পর্যায়ক্রমে তা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

জিপিএস ট্র্যাকিংয়ে গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ

বাস, ট্রাক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহনে GPS ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করা হলে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বাড়তে পারে। একটি বাস কোথায় আছে, কত গতিতে চলছে, নির্ধারিত রুট অনুসরণ করছে কি না—এসব তথ্য কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।

বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকে GPS ডেটা বিশ্লেষণ করে চালকের অতিরিক্ত গতি, অস্বাভাবিক থামা বা নির্ধারিত রুটের বাইরে যাওয়ার মতো বিষয় শনাক্ত করা যেতে পারে। পরিবহন কোম্পানিগুলোও এসব তথ্য ব্যবহার করে চালকদের কর্মদক্ষতা ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন করতে পারবে।

স্মার্ট মহাসড়কের প্রয়োজন

দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোকে ধীরে ধীরে স্মার্ট মহাসড়কে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। মহাসড়কে সেন্সর, ক্যামেরা, ডিজিটাল সাইনবোর্ড, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ও জরুরি যোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপন করা যেতে পারে।

কোনো এলাকায় ঘন কুয়াশা, অতিবৃষ্টি, দুর্ঘটনা বা রাস্তার কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডিজিটাল সাইনবোর্ডের মাধ্যমে চালকদের তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করা সম্ভব। প্রয়োজনে বিকল্প পথের নির্দেশনাও দেওয়া যাবে।

এ ছাড়া মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাস্তার অবস্থা পর্যবেক্ষণকারী সেন্সর বসানো হলে গর্ত, পানির অবস্থান বা অন্য কোনো ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

আরো পড়ুন: যেসব আইটি প্রশিক্ষণ বদলে দেবে জীবন

দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ

কোন এলাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে, কোন সময়ে দুর্ঘটনা বেশি হয়, কোন ধরনের যানবাহন বেশি দুর্ঘটনায় জড়িত এবং দুর্ঘটনার প্রধান কারণ কী—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা বা ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করা যেতে পারে।

প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থা থেকে পাওয়া দুর্ঘটনার তথ্য একটি সমন্বিত ডেটাবেসে সংরক্ষণ করা গেলে এআই সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো শনাক্ত করতে পারবে।

কোনো এলাকায় বারবার দুর্ঘটনা হলে সেখানে শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা না নিয়ে আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্পিড ব্রেকার, সড়কবাতি, ডিভাইডার, সতর্কতামূলক সাইন, পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা কিংবা ক্যামেরা বসানো যেতে পারে।

দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার

প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু দুর্ঘটনা প্রতিরোধেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতেও প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন।

গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় দুর্ঘটনা শনাক্তকারী ব্যবস্থা থাকলে বড় ধরনের সংঘর্ষের পরপরই সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবা সংস্থাকে সংকেত পাঠানো সম্ভব। GPS-এর মাধ্যমে দুর্ঘটনার সঠিক অবস্থানও জানানো যেতে পারে। এতে দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস বা পুলিশের দল পৌঁছাতে পারবে।

এ ছাড়া মহাসড়কে জরুরি কল পয়েন্ট, মোবাইল অ্যাপ ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হলে দুর্ঘটনার খবর দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

পথচারীর নিরাপত্তায় প্রযুক্তি

সড়ক নিরাপত্তার আলোচনায় শুধু গাড়ি ও চালককে গুরুত্ব দিলে হবে না। পথচারীদের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্যস্ত সড়কে স্মার্ট পথচারী সিগন্যাল, সেন্সরভিত্তিক ক্রসিং এবং পথচারী শনাক্তকারী ক্যামেরা ব্যবহার করা যেতে পারে।

কোনো পথচারী রাস্তা পারাপারের জন্য নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করলে সেন্সরের মাধ্যমে সিগন্যাল ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা সম্ভব। রাতে পথচারী চলাচল করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সড়কবাতির উজ্জ্বলতা বাড়ানোর প্রযুক্তিও ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রযুক্তির পাশাপাশি দরকার দক্ষ জনবল

প্রযুক্তি স্থাপন করলেই দুর্ঘটনা বন্ধ হয়ে যাবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট অবকাঠামো প্রয়োজন।

একই সঙ্গে প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নীতিমালা থাকতে হবে। ক্যামেরা ও নজরদারি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের আইটি খাত: সফটওয়্যার থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিশ্ববাজারে বাড়ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের দাপট

সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ট্রাফিক পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রথম ধাপে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়ক ও নগর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্মার্ট ক্যামেরা, স্পিড ডিটেকশন ব্যবস্থা এবং GPS-ভিত্তিক যানবাহন পর্যবেক্ষণ চালু করা যেতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে স্মার্ট সিগন্যাল, চালক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ও জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনা ঘটার পর দায়ী ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার চেয়ে দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বেশি কার্যকর। আর এই পূর্বাভাস ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণ, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মহাসড়কে যান চলাচল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। ফলে এখনই প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনার দিকে জোর দেওয়া প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনা হয়তো কঠিন। তবে চালকের ভুল শনাক্ত করা, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পর্যবেক্ষণ, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করা গেলে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তাই নিরাপদ সড়ক গড়তে প্রযুক্তিকে শুধু সহায়ক উপাদান হিসেবে নয়, বরং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার সময় এসেছে।