দেশের বেকার ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। এসব প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের কর্মমুখী দক্ষতা বাড়ানো, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। সময়ের সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে প্রশিক্ষণের বিষয়েও যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি ও পেশাভিত্তিক কোর্স।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পরিধি বেশ বিস্তৃত। কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, পোশাক তৈরি, হস্তশিল্প, কৃষি, মাছ চাষ, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন, পর্যটন ও হোটেল ব্যবস্থাপনা, বিউটিফিকেশন, ভাষা শিক্ষা, ড্রাইভিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অধিদপ্তরের প্রকাশিত প্রশিক্ষণ তালিকায় এসব কোর্সের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের উল্লেখ রয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণে গুরুত্ব
বর্তমান শ্রমবাজারে প্রযুক্তিগত দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এ কারণে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কম্পিউটার বেসিক অ্যান্ড আইসিটি অ্যাপ্লিকেশন, মডার্ন অফিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে।
কম্পিউটারভিত্তিক প্রশিক্ষণে সাধারণত অফিসের দৈনন্দিন কাজে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ব্যবহার, ডকুমেন্ট তৈরি, তথ্য সংরক্ষণ, অনলাইন যোগাযোগ এবং ডিজিটাল কাজের মৌলিক দক্ষতা গড়ে তোলা হয়। গ্রাফিক ডিজাইনের মতো প্রশিক্ষণে ডিজিটাল কনটেন্ট ও নকশা তৈরির ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকে।
এ ছাড়া প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক একটি ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)’ ভিত্তিক বেসিক প্রশিক্ষণ কোর্সের উল্লেখ রয়েছে।
আরো পড়ুন- প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণে নারীর ক্ষমতায়ন, ঘুরবে অর্থনীতির চাকা
কারিগরি দক্ষতা তৈরিতে প্রশিক্ষণ
তরুণদের দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে কারিগরি প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজ ওয়্যারিং, ইলেকট্রনিকস, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, ওয়েল্ডিং এবং মোবাইল ফোন সার্ভিসিং অ্যান্ড রিপেয়ারিংয়ের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রকাশিত প্রশিক্ষণ তালিকা অনুযায়ী, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজ ওয়্যারিং, ইলেকট্রনিকস এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিংয়ের মতো কোর্সের মেয়াদ ছয় মাস পর্যন্ত হতে পারে। আবার মোবাইল ফোন সার্ভিসিং অ্যান্ড রিপেয়ারিং ও ওয়েল্ডিংয়ের মতো কিছু কোর্স এক মাস মেয়াদি।
এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন তরুণ চাকরির পাশাপাশি নিজেও কাজ শুরু করার মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। স্থানীয় পর্যায়ে ইলেকট্রিশিয়ান, ইলেকট্রনিকস মেকানিক, এসি-ফ্রিজ মেরামতকারী কিংবা মোবাইল ফোন টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পোশাক ও হস্তশিল্প
দেশের পোশাক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বিবেচনায় পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ তালিকায় পোশাক তৈরি, ব্লক-বাটিক ও স্ক্রিন প্রিন্টিং, ওভেন সুইং মেশিন অপারেটর এবং ফ্যাশন ডিজাইন বিষয়ে প্রশিক্ষণের উল্লেখ রয়েছে।
এসব প্রশিক্ষণ বিশেষ করে ঘরে বসে কাজ করতে আগ্রহী নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পোশাক তৈরি বা ব্লক-বাটিকের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। একইভাবে পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য ও হস্তশিল্প তৈরির প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে আয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কৃষি ও প্রাণিসম্পদ
বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি ও প্রাণিসম্পদের গুরুত্ব বিবেচনায় যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণে এ খাতের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন, প্রাথমিক চিকিৎসা, মৎস্য চাষ ও কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃষি ও হর্টিকালচার বিষয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
এই ধরনের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য শুধু কৃষিকাজ শেখানো নয়; বরং আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদন, খামার পরিচালনা এবং আয়মুখী উদ্যোগ গড়ে তোলার সক্ষমতা তৈরি করা। একজন প্রশিক্ষণার্থী নিজ এলাকায় ছোট পরিসরে খামার, মাছের চাষ বা কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ শুরু করতে পারেন।
পর্যটন ও হোটেল ব্যবস্থাপনা
দেশে পর্যটন শিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ জনবলের চাহিদাও বাড়ছে। এ খাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ তালিকায় ক্যাটারিং, হাউসকিপিং, লন্ড্রি অপারেশন, কমিউনিকেটিভ ইংলিশ, ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজমেন্ট ও ট্যুরিস্ট গাইড বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
হোটেল ও পর্যটন খাতে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য এসব প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। একজন তরুণ প্রশিক্ষণ নিয়ে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট, পর্যটন প্রতিষ্ঠান কিংবা সংশ্লিষ্ট সেবাখাতে কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেন।
আরো পড়ুন: স্মার্টফোনে শিশুদের আসক্তি, কীভাবে দূর করবেন
ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা
শুধু কারিগরি দক্ষতা থাকলেই বর্তমান শ্রমবাজারে সফল হওয়া সবসময় সহজ নয়। যোগাযোগ দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞানও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে যুব উন্নয়ন কার্যক্রমে ইংরেজি ও আরবি ভাষা শিক্ষার মতো প্রশিক্ষণও রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় ইংরেজি ও আরবি ভাষা শিক্ষার দুই মাস মেয়াদি কোর্সের উল্লেখ পাওয়া যায়।
বিশেষ করে বিদেশে কর্মসংস্থান, পর্যটন, সেবা খাত ও বিভিন্ন পেশায় কাজের ক্ষেত্রে ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা তরুণদের বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
বিউটিফিকেশন ও ব্যক্তিগত সেবা
নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিউটিফিকেশন বা সৌন্দর্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণও রয়েছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৌন্দর্যসেবা খাতে কাজের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে কেউ চাকরিতে যুক্ত হতে পারেন, আবার নিজ এলাকায় ছোট পরিসরে বিউটি পার্লার বা ব্যক্তিগত সেবা-ভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারেন। ফলে প্রশিক্ষণটি সরাসরি আত্মকর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
ড্রাইভিং ও পরিবহন খাত
পরিবহন খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা থাকায় যানবাহন চালনা প্রশিক্ষণও যুব উন্নয়ন কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৬ সালের একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ৪০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬৪ জেলার বেকার যুবদের জন্য এক মাস মেয়াদি অনাবাসিক যানবাহন চালনা প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের পেশাগতভাবে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য থাকে। প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করে পেশাগত কাজে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।
ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন কর্মসংস্থান
বিশ্বব্যাপী অনলাইন কর্মসংস্থানের বিস্তারের কারণে বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যেও ফ্রিল্যান্সিংয়ের আগ্রহ বাড়ছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ডিজিটাল দক্ষতা এবং ফ্রিল্যান্সিং-সম্পর্কিত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অধিদপ্তরের একটি প্রশিক্ষণ প্রকল্পের নথিতে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং এইচএসসি বা সমমান পাস তরুণদের জন্য ৭৫ দিন ও মোট ৬০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ের জন্য পরীক্ষার কথাও বলা হয়েছে।
ডিজিটাল দক্ষতার সঙ্গে ইংরেজি যোগাযোগ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট কাজের দক্ষতা যুক্ত হলে তরুণদের দেশ-বিদেশের ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা বাড়ে।
আরো পড়ুন: প্রযুক্তি যেভাবে হয়ে উঠছে চাকরির প্রধান হাতিয়ার
প্রশিক্ষণ থেকে উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য
যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো প্রশিক্ষণ শেষে একজন তরুণ যেন শুধু চাকরির জন্য অপেক্ষা না করেন। বরং নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করার পথ তৈরি করতে পারেন।
এ জন্য কৃষি, প্রাণিসম্পদ, কারিগরি কাজ, পোশাক তৈরি, হস্তশিল্প, বিউটি কেয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। প্রশিক্ষণের সঙ্গে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বাজারমুখী দক্ষতা যুক্ত হলে একজন প্রশিক্ষণার্থী নিজের উদ্যোগকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার সুযোগ পান।
প্রশিক্ষণের মেয়াদ এক নয়
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণগুলোর মেয়াদ একই ধরনের নয়। কোনো কোনো কোর্স এক মাস, আবার কোনো কোনো কোর্স দুই, তিন, চার বা ছয় মাস মেয়াদি। কিছু প্রশিক্ষণ আরও স্বল্পমেয়াদি। যেমন প্রকাশিত তালিকায় ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিংয়ের ১৪ দিনের প্রশিক্ষণ এবং কিছু বিষয়ে এক মাস বা দুই মাস মেয়াদি কোর্সের উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ একজন তরুণ তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের বিষয় নির্বাচন করতে পারেন। তবে কোন সময়ে কোন কোর্সে ভর্তি নেওয়া হবে, কতটি আসন থাকবে এবং প্রশিক্ষণের সময়কাল কত হবে—তা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করে।
নতুন দক্ষতার সঙ্গে তাল মেলানোর চেষ্টা
শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও যেসব দক্ষতার চাহিদা সীমিত ছিল, এখন সেসব দক্ষতার কিছু ক্ষেত্রে চাহিদা বাড়ছে। আবার নতুন প্রযুক্তি ও নতুন পেশারও সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকেও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক বেসিক প্রশিক্ষণ যুক্ত হওয়ার বিষয়টি সেই পরিবর্তনের একটি উদাহরণ। একই সঙ্গে কম্পিউটার, গ্রাফিক ডিজাইন ও অন্যান্য ডিজিটাল দক্ষতার প্রশিক্ষণও চালু রয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রশিক্ষণ
বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনীতির বড় শক্তি। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি কর্মমুখী দক্ষতা না থাকলে এই জনশক্তিকে কর্মসংস্থানে যুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সেই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একজন তরুণ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কোনো একটি পেশায় দক্ষ হয়ে চাকরিতে প্রবেশ করতে পারেন। আবার একই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। ফলে প্রশিক্ষণের সুফল শুধু একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রশিক্ষণে আগ্রহীদের করণীয়
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণে ভর্তি হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি ভালোভাবে পড়া জরুরি। কারণ কোর্সভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা, আসনসংখ্যা, প্রশিক্ষণের মেয়াদ ও অন্যান্য শর্ত আলাদা হতে পারে। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম ও আবেদন ফরমের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
তাই শুধু প্রশিক্ষণে ভর্তি হওয়াই শেষ কথা নয়। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত দক্ষতাকে কীভাবে কাজে লাগানো হবে, কোথায় চাকরির সুযোগ রয়েছে, কীভাবে নিজস্ব উদ্যোগ শুরু করা যায় এবং বাজারের চাহিদা কী—এসব বিষয়ও প্রশিক্ষণার্থীদের বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এখন শুধু প্রচলিত কারিগরি শিক্ষা বা স্বল্পমেয়াদি পেশাগত প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্রাফিক ডিজাইন, ইলেকট্রনিকস, কৃষি, প্রাণিসম্পদ, পোশাক, পর্যটন, ভাষা, বিউটি কেয়ার, ড্রাইভিংসহ নানা খাতে দক্ষতা তৈরির সুযোগ রয়েছে।
সরকারি এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বেকার তরুণদের একটি বড় অংশকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব। আর দক্ষ তরুণরাই হতে পারেন ভবিষ্যতের কর্মী, ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে তাই যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণকে আরও আধুনিক, বাজারমুখী এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।