মানবসভ্যতার ইতিহাস মূলত জ্ঞান, অনুসন্ধান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার ইতিহাস। আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে চাকা, কৃষি, স্থাপত্য, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ, কম্পিউটার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিটি অগ্রগতির পেছনে রয়েছে মানুষের জানার আগ্রহ ও প্রকৃতিকে বোঝার চেষ্টা। ইসলাম জ্ঞানচর্চা ও অনুসন্ধানের এই প্রবণতাকে গুরুত্ব দিয়েছে। আর মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ আল-কোরআনে বারবার মানুষকে সৃষ্টি, প্রকৃতি, আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও জীবনের নানা নিদর্শন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে কোরআন মূলত বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির পাঠ্যবই নয়। এতে আধুনিক প্রযুক্তির নকশা বা প্রকৌশলগত নির্দেশনা সরাসরি দেওয়া হয়নি। বরং কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে জ্ঞান অর্জন, পর্যবেক্ষণ, চিন্তা, গবেষণা এবং সৃষ্টিজগতের নিদর্শন নিয়ে ভাবার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে কোরআনের জ্ঞানচর্চার আহ্বানের একটি গভীর সম্পর্ক খুঁজে দেখা যায়।

প্রথম নির্দেশনাই ছিল ‘পড়’

ইসলামের ইতিহাসে জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব বোঝাতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত আয়াতগুলোর একটি হলো সূরা আলাকের প্রথম আয়াত।

আল্লাহ বলেন,

اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ

উচ্চারণ: ‘ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক।’

অর্থ: ‘পড় তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’
-সূরা আলাক, ৯৬:১

এই আয়াতে ‘পড়’ নির্দেশের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। একই সূরার পরবর্তী আয়াতগুলোতেও মানুষের সৃষ্টি ও জ্ঞানদানের কথা এসেছে।

প্রযুক্তির ভিত্তি হচ্ছে জ্ঞান। কোনো যন্ত্র, সফটওয়্যার, চিকিৎসাপদ্ধতি কিংবা মহাকাশযান তৈরি করার আগে প্রয়োজন পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও গবেষণা। সেই অর্থে জ্ঞানচর্চার প্রতি কোরআনের আহ্বান মানবসভ্যতার প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আরো পড়ুন: স্মার্টফোনে শিশুদের আসক্তি, কীভাবে দূর করবেন

কলম ও জ্ঞানের গুরুত্ব

কোরআনে কলমের কথাও বিশেষভাবে এসেছে। সূরা আলাকের চতুর্থ আয়াতে বলা হয়েছে-

الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ

উচ্চারণ: ‘আল্লাজি আল্লামা বিলকলাম।’

অর্থ: ‘যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন।’

কলম এখানে জ্ঞান সংরক্ষণ ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। মানবসভ্যতার বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে লিখিত জ্ঞানের ভূমিকা অপরিসীম। এক প্রজন্মের আবিষ্কার পরবর্তী প্রজন্মের গবেষণার ভিত্তি তৈরি করে। বই, নথি, গবেষণাপত্র থেকে শুরু করে আজকের ডিজিটাল ডেটাবেস জ্ঞান সংরক্ষণের প্রযুক্তি ক্রমেই বদলেছে।

আজকের কম্পিউটার, ক্লাউড স্টোরেজ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও তথ্য সংরক্ষণ ও বিনিময় প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান বিষয়। কোরআনে কলমের মাধ্যমে জ্ঞান শিক্ষার উল্লেখ সেই জ্ঞানসংরক্ষণ সংস্কৃতির গুরুত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের আহ্বান

কোরআনের বিভিন্ন স্থানে আকাশ, পৃথিবী, পাহাড়, সমুদ্র, উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করতে বলা হয়েছে। সূরা আলে ইমরানে বলা হয়েছে-

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ

উচ্চারণ: ‘ইন্না ফি খালকিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়াখতিলাফিল লাইলি ওয়ান্নাহারি লাআয়াতিল লি উলিল আলবাব।’

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’
-সূরা আলে ইমরান, ৩:১৯০

প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করা আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম মৌলিক পদ্ধতি। আকাশ পর্যবেক্ষণ থেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞান এগিয়েছে; প্রাণী ও উদ্ভিদ পর্যবেক্ষণ থেকে জীববিজ্ঞান বিকশিত হয়েছে; পানি, মাটি ও আবহাওয়া নিয়ে গবেষণা থেকে পরিবেশবিজ্ঞান ও জলবায়ুবিজ্ঞান সমৃদ্ধ হয়েছে।

অর্থাৎ কোরআন মানুষকে প্রকৃতির নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করতে যে আহ্বান জানায়, তা জ্ঞানভিত্তিক অনুসন্ধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আরো পড়ুন: প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণে নারীর ক্ষমতায়ন, ঘুরবে অর্থনীতির চাকা

প্রকৃতি মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো

কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অনেক কিছু মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন। সূরা জাসিয়ায় বলা হয়েছে—

وَسَخَّرَ لَكُم مَّا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مِّنْهُ

উচ্চারণ: ‘ওয়া সাখখারা লাকুম মা ফিস সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদি জামিয়াম মিনহু।’

অর্থ: ‘তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন।’
-সূরা আল-জাসিয়াহ, ৪৫:১৩

প্রকৃতির সম্পদ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার ধারণা প্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বাতাস থেকে শক্তি আহরণ, সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কিংবা কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সবই প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য ও সম্পদকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর উদাহরণ।

তবে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে এই ব্যবহার দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রকৃতির সম্পদ ব্যবহার করতে গিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করা কিংবা অপচয় করা গ্রহণযোগ্য নয়।

দাউদ (আ.) ও লোহা ব্যবহারের শিক্ষা

কোরআনে হজরত দাউদ (আ.)-এর সঙ্গে লোহা ব্যবহারের একটি বিশেষ প্রসঙ্গ এসেছে। সূরা সাবায় আল্লাহ বলেন,

وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيدَ

উচ্চারণ: ‘ওয়া আলান্না লাহুল হাদিদ।’

অর্থ: ‘আমি তার জন্য লোহাকে নমনীয় করে দিয়েছিলাম।’
—সূরা সাবা, ৩৪:১০

পরের আয়াতে বর্ম তৈরির নির্দেশের কথাও এসেছে।

এই আয়াতকে আধুনিক ধাতুবিদ্যা বা প্রকৌশলের নির্দিষ্ট সূত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। তবে লোহা মানুষের কাজে লাগানো, তা দিয়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরি এবং কারিগরি দক্ষতার গুরুত্বের একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।

আজকের পৃথিবীতে লোহা ও ইস্পাত ছাড়া আধুনিক অবকাঠামো কল্পনা করা কঠিন। সেতু, রেলপথ, গাড়ি, জাহাজ, ভবন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় ধাতব উপাদানের ব্যবহার ব্যাপক।

আরো পড়ুন: যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, কী কী শেখানো হয় তরুণদের

নৌযান ও সমুদ্র প্রযুক্তি

মানুষের প্রযুক্তিগত ইতিহাসে নৌযানের আবিষ্কার ছিল একটি বড় পরিবর্তন। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে সমুদ্রে চলাচলকারী নৌযানের কথা এসেছে। সূরা নাহলে বলা হয়েছে-

‘তোমরা যেন তার পিঠে আরোহণ করো এবং তিনি তোমাদের জন্য যা সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছেন তা অনুসন্ধান করো’এ ধরনের বক্তব্য মানুষের ভ্রমণ ও প্রকৃতির সম্পদ ব্যবহারের প্রসঙ্গ সামনে আনে।

বর্তমানে সমুদ্র গবেষণা, গভীর সমুদ্র অনুসন্ধান, সাবমেরিন, সমুদ্রতলের খনিজ অনুসন্ধান এবং সামুদ্রিক যোগাযোগ প্রযুক্তি মানুষের জ্ঞানকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সমুদ্রের বিশাল অংশ এখনো পুরোপুরি অনুসন্ধান করা হয়নি। ফলে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে সমুদ্র গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

মহাকাশ অনুসন্ধান ও কোরআনের দৃষ্টিভঙ্গি

মানুষের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায়গুলোর একটি মহাকাশ গবেষণা। মানুষ চাঁদে পৌঁছেছে, মঙ্গলগ্রহে যান পাঠিয়েছে এবং দূরবর্তী মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য শক্তিশালী টেলিস্কোপ তৈরি করেছে।

কোরআনে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান রয়েছে। সূরা গাশিয়ায় বলা হয়েছে-

أَفَلَا يَنظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ

এরপর আকাশ, পাহাড় ও পৃথিবীর দিকে তাকাতে বলা হয়েছে।

এখানে মূল শিক্ষা হলো সৃষ্টিজগতের দিকে গভীরভাবে তাকানো ও চিন্তা করা। এটিকে আধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তির সরাসরি ভবিষ্যদ্বাণী বলা না হলেও জগতের গঠন ও নিদর্শন নিয়ে অনুসন্ধানের একটি দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখা যায়।

চিকিৎসা ও মানবদেহ সম্পর্কে অনুসন্ধান

কোরআনে মানুষের সৃষ্টি নিয়ে বহুবার চিন্তা করতে বলা হয়েছে। মানুষের দেহ, জন্ম ও জীবনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে কোরআনে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব আয়াতকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্দিষ্ট পাঠ হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান মানুষের শরীরের কোষ, জিন, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, মস্তিষ্ক ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছে। কৃত্রিম অঙ্গ, রোবোটিক সার্জারি, টেলিমেডিসিন, জিনগত গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রোগ নির্ণয় চিকিৎসা প্রযুক্তিকে দ্রুত পরিবর্তন করছে।

কোরআনের দৃষ্টিতে মানুষের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করা জ্ঞানচর্চার একটি অংশ হতে পারে; তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ফলাফল প্রতিষ্ঠিত হয় পরীক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে।

কোরআন ও আধুনিক প্রযুক্তি: কীভাবে দেখা উচিত?

কোরআনের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারসাম্য। কোরআনকে পদার্থবিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান বা প্রকৌশলের পাঠ্যবই হিসেবে দেখা ঠিক নয়। আবার কোরআনে জ্ঞান, পর্যবেক্ষণ, গবেষণা ও সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করার যে আহ্বান রয়েছে, সেটিকে উপেক্ষা করাও ঠিক হবে না।

ইসলামের জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যযুগে গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসা, অপটিকস, ভূগোল ও প্রকৌশলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলিম জ্ঞানীদের কাজ পরবর্তী বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলেছে। আল-খাওয়ারিজমি, ইবনে আল-হাইসাম, ইবনে সিনাসহ বহু মনীষী জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

প্রযুক্তি হবে মানবকল্যাণের জন্য

আধুনিক প্রযুক্তির শক্তি যত বাড়ছে, এর দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রশ্নও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জেনেটিক প্রযুক্তি, রোবট, পারমাণবিক শক্তি ও মহাকাশ প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে বদলে দিতে পারে। একই সঙ্গে অপব্যবহার হলে এগুলো ক্ষতির কারণও হতে পারে।

ইসলামের মৌলিক শিক্ষায় জ্ঞানকে মানবকল্যাণ, ন্যায়, দায়িত্ব ও সৎ কাজে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রযুক্তির উদ্দেশ্য শুধু দ্রুততা বা শক্তি বৃদ্ধি নয়; মানুষের জীবনকে নিরাপদ, সহজ ও কল্যাণময় করাও হওয়া উচিত।

আল-কোরআন আধুনিক প্রযুক্তির কোনো তালিকা দেয়নি এবং বর্তমান বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলোর সরাসরি নকশাও উপস্থাপন করেনি। তবে কোরআন মানুষকে পড়তে, জানতে, চিন্তা করতে, পর্যবেক্ষণ করতে এবং সৃষ্টিজগতের নিদর্শন নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে আহ্বান জানায়। এই জ্ঞানচর্চার মানসিকতা মানবসভ্যতার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর অগ্রযাত্রার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে সম্পর্কিত।

‘পড়’, ‘চিন্তা কর’, ‘দেখ’ ও ‘অনুসন্ধান কর’কোরআনের এসব আহ্বান মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের দরজা খুলে দেয়। আর সেই জ্ঞান যখন নৈতিকতা ও মানবকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন প্রযুক্তি কেবল যন্ত্রের উন্নয়ন থাকে না; তা হয়ে ওঠে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

তাই কোরআনে প্রযুক্তির ‘উৎকর্ষ’ খুঁজতে গিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে আধুনিক কোনো যন্ত্রের সঙ্গে আয়াতের জোরপূর্বক মিল খোঁজা নয়; বরং জ্ঞান অর্জন, গবেষণা, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ এবং সেই জ্ঞানকে মানবকল্যাণে ব্যবহারের যে দৃষ্টিভঙ্গি কোরআন সামনে আনে, সেটিকে অনুধাবন করা।