পাহাড়ের গভীরে বিশাল টানেল, মোটা কংক্রিটের সুরক্ষা আর মাটির অনেক নিচে তৈরি বিশেষায়িত স্থাপনা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন এমনই ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। দেশটির সবচেয়ে আলোচিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে কুমের কাছে ফোরদো, নাতাঞ্জের ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্স এবং ইসফাহানের বিভিন্ন সুরক্ষিত স্থাপনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নাতাঞ্জের কাছের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ বা পাহাড়ি টানেল নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এসব স্থাপনার সবকটিকে সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কেন্দ্র বলা যায় না। মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, পারমাণবিক জ্বালানি প্রস্তুতি, ইউরেনিয়াম রূপান্তর এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর সঙ্গে এগুলোর সম্পর্ক রয়েছে। তবে ইউরেনিয়াম উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ করার সক্ষমতার কারণে ইরানের এসব স্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) বিভিন্ন সময়ে নাতাঞ্জ ও ফোরদোর মতো স্থাপনায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছে। তবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সামরিক হামলা এবং পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি স্থাপনায় সংস্থাটির সরাসরি প্রবেশ ও যাচাই কার্যক্রম সীমিত হয়েছে। ফলে বর্তমানে এসব স্থাপনার ভেতরে ঠিক কী পরিমাণ কার্যক্রম চলছে, তার সবটাই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
পাহাড়ের ভেতর ফোরদো
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সবচেয়ে পরিচিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোর একটি হলো ফোরদো ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্ল্যান্ট। এটি কুম শহরের কাছাকাছি একটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। স্থাপনাটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যে এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাহাড়ের গভীরে অবস্থান করছে।
ফোরদোর মূল কাজ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এখানে গ্যাসীয় ইউরেনিয়াম যৌগকে সেন্ট্রিফিউজের মাধ্যমে পরিশোধন করে ইউরেনিয়াম-২৩৫-এর ঘনত্ব বাড়ানো হয়। ইরানের ঘোষিত পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
IAEA-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে ফোরদোতে বিভিন্ন ধরনের সেন্ট্রিফিউজ ও সমৃদ্ধকরণ ক্যাসকেডের উপস্থিতির তথ্য ছিল। সংস্থাটি সেখানে ইরানের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করছিল।
ফোরদোর অবস্থান ও নির্মাণ কাঠামোই এটিকে অন্য অনেক পারমাণবিক স্থাপনা থেকে আলাদা করেছে। পাহাড়ের নিচে স্থাপনা নির্মাণের ফলে প্রচলিত বিমান হামলার বিরুদ্ধে এটি তুলনামূলক বেশি সুরক্ষিত বলে সামরিক ও পারমাণবিক বিশ্লেষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পর ফোরদো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। IAEA তখন জানিয়েছিল, নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোর পারমাণবিক স্থাপনা আক্রান্ত হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সে সময় বাইরে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন: প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষিতে বিপ্লব
নাতাঞ্জের ভূগর্ভস্থ জগৎ
ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোর একটি নাতাঞ্জ। ইসফাহান প্রদেশে অবস্থিত এই কমপ্লেক্সে মাটির ওপরের স্থাপনার পাশাপাশি ভূগর্ভেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে।
নাতাঞ্জের ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্ল্যান্ট বা FEP-এ বিভিন্ন ধরনের সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহারের মাধ্যমে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পাইলট ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্ল্যান্ট বা PFEP-এ গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
IAEA-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সামরিক হামলার পর নাতাঞ্জের ভূগর্ভস্থ সমৃদ্ধকরণ হলগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। সংস্থাটি স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানিয়েছিল। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর এসব স্থাপনার ভেতরে কার্যক্রম ও সেখানে থাকা পারমাণবিক উপাদানের অবস্থা সম্পর্কে সংস্থাটির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছিল না।
পরবর্তী সময়েও নাতাঞ্জ হামলার শিকার হয়েছে। IAEA-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় আবারও বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছিল, ওই সময় বাইরে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন কেন আলোচনায়
নাতাঞ্জের কাছেই রয়েছে আরেকটি পাহাড়ি এলাকা, যেটি সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। এটি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত। পাহাড়টির নিচে গভীর টানেল কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে বলে স্যাটেলাইট ছবি ও বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে দুটি গভীর টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে। নাতাঞ্জের মূল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এই টানেল কমপ্লেক্স সামরিক হামলার বাইরে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ স্থাপনাটি ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভেতরে বর্তমানে ঠিক কী ধরনের পারমাণবিক সরঞ্জাম রয়েছে, সেখানে সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করা হয়েছে কি না কিংবা সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চলছে কি না এসব বিষয়ে প্রকাশ্য তথ্য দিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
অর্থাৎ, পাহাড়ের নিচে বড় ধরনের সুরক্ষিত অবকাঠামো থাকার বিষয়টি বিভিন্ন সূত্রে উঠে এলেও এর সুনির্দিষ্ট ব্যবহার নিয়ে নিশ্চিত তথ্য সীমিত।
ইসফাহানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ইসফাহান। এখানে ইউরেনিয়াম রূপান্তর, পারমাণবিক জ্বালানি-সংক্রান্ত গবেষণা এবং অন্যান্য পারমাণবিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একাধিক স্থাপনা রয়েছে।
ইসফাহান এলাকায় পাহাড়ের ভেতরে টানেল নির্মাণের বিষয়টিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে। এসব টানেলের কিছু অংশে পারমাণবিক উপাদান সংরক্ষণ বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
২০২৫ সালের জুনে ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হয়। IAEA তখন জানায়, স্থাপনাগুলোতে হামলা হলেও ওই সময় বাইরে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বাড়ার খবর পাওয়া যায়নি।
একই বছরের জুনে ইরান IAEA-কে ইসফাহান ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্ল্যান্ট নামে নতুন একটি সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানায়। তবে সামরিক হামলার কারণে নির্ধারিত নকশা যাচাই কার্যক্রম বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ওই স্থাপনায় সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন বা পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না, তা IAEA নিশ্চিত করতে পারেনি।
আরো পড়ুন: এআইয়ের ক্ষতিকর দিক: আশীর্বাদের আড়ালে বাড়ছে নানা ঝুঁকি
কেন পাহাড়ের ভেতরে স্থাপনা?
পারমাণবিক স্থাপনা পাহাড়ের গভীরে নির্মাণের অন্যতম কারণ হলো সুরক্ষা। মাটির অনেক নিচে এবং শক্ত পাথরের স্তরের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণ করলে সাধারণ বিমান হামলায় সরাসরি ক্ষতি করা কঠিন হতে পারে।
এ ধরনের স্থাপনায় প্রবেশপথ সীমিত রাখা যায়। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি, সেন্ট্রিফিউজ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অবকাঠামোকে পৃষ্ঠের ওপরের হামলা থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।
তবে গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা পুরোপুরি অজেয় নয়। অত্যাধুনিক অস্ত্র, বিশেষ করে গভীর ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের জন্য তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করে এগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা যেতে পারে। এ কারণেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং সেগুলোর অবস্থান নিয়ে সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষণে পাহাড়ের গভীরতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইউরেনিয়াম প্রকৃতিতে বিভিন্ন আইসোটোপের মিশ্রণ হিসেবে পাওয়া যায়। পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়ামের নির্দিষ্ট মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ প্রয়োজন হতে পারে।
সেন্ট্রিফিউজের মাধ্যমে ইউরেনিয়াম-২৩৫-এর অনুপাত বাড়ানো হয়। বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানির জন্য অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন। অন্যদিকে অস্ত্র তৈরির জন্য অনেক বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হতে পারে।
এই কারণে ইরানের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অন্যতম প্রধান বিষয়।
ইরান বলছে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা ও গবেষণাসহ বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ কয়েকটি দেশ ইরানের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ও মজুত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
IAEA-এর পর্যবেক্ষণ কতটা সম্ভব?
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে IAEA গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ সব সময় সমানভাবে সম্ভব হয়নি।
২০২২ সালের IAEA নথিতে বলা হয়েছিল, নাতাঞ্জ ও ফোরদোর সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় দৈনিক প্রবেশাধিকারসহ কিছু পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম সংস্থাটি করতে পারছিল না।
২০২৫ সালের সামরিক হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কিছু স্থাপনার ভেতরে পারমাণবিক উপাদান ও যন্ত্রপাতির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এ কারণে বর্তমানে স্যাটেলাইট ছবি, ইরানের দেওয়া তথ্য, IAEA-এর সীমিত যাচাই এবং বিভিন্ন স্বাধীন বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
হামলার পরও কেন উদ্বেগ কমেনি
পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে শুধু স্থাপনা ধ্বংসের বিষয়টি নয়, সেখানে থাকা পারমাণবিক উপাদানের অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানকার উপাদান কোথায় সরানো হয়েছে, কী পরিমাণ উপাদান অক্ষত আছে এবং নতুন কোনো স্থাপনায় তা স্থানান্তর করা হয়েছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরি।
IAEA-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের হামলার পর নাতাঞ্জের কিছু ভূগর্ভস্থ অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময়ে ইসফাহানে নতুন সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও ইরান জানিয়েছিল। ফলে একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কর্মসূচির অন্য অংশ কোথায় এবং কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেটিই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।
আরো পড়ুন: চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রযুক্তির অভাবনীয় সাফল্য, বদলে যাচ্ছে চিকিৎসার চিত্র
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন কী
ইরানের পাহাড়ের গভীরে থাকা স্থাপনাগুলো নিয়ে এখন কয়েকটি প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নাতাঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো কতটা পুনরুদ্ধার হয়েছে, ফোরদোর বর্তমান অবস্থা কী, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের টানেলগুলো কী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ইসফাহানে নতুন সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাজ কতদূর এগিয়েছে।
এর পাশাপাশি ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ ও অবস্থান নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ রয়েছে।
তবে সামরিক হামলা, সীমিত পরিদর্শন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব প্রশ্নের সবগুলোর নিশ্চিত উত্তর এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
পাহাড়ের নিচে ইরানের পারমাণবিক ভবিষ্যৎ
ফোরদো থেকে নাতাঞ্জ, নাতাঞ্জের কাছের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন থেকে ইসফাহান ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর একটি বড় অংশ এখন এমন স্থানে বিস্তৃত, যেগুলো মাটির ওপর থেকে সহজে দেখা যায় না। কোথাও পুরোনো সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা, কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত ভূগর্ভস্থ হল, আবার কোথাও নতুন টানেল নির্মাণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ চলছে।
এসব স্থাপনার প্রকৃত কার্যক্রম জানতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ও যাচাই। কিন্তু সামরিক সংঘাত ও নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতায় সেই যাচাই বাধাগ্রস্ত হলে অনিশ্চয়তাও বাড়ে।
ফলে ইরানের পাহাড়ের গভীরে তৈরি পারমাণবিক অবকাঠামো শুধু দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির প্রযুক্তিগত দিক নয়; মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, পারমাণবিক বিস্তার রোধ এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।