একসময় বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের পরিচয় ছিল মূলত আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এখন সেই চিত্র বদলেছে। দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হয়ে সফটওয়্যার তৈরি করছে না, বরং নিজেদের তৈরি সফটওয়্যার, SaaS প্ল্যাটফর্ম, এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ERP), ফিনটেক, হেলথটেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা বিদেশের বাজারে বিক্রি করছে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (BASIS) জানিয়েছে, তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বিশ্বের ১০৪টির বেশি দেশে সফটওয়্যার ও আইটি সেবা রপ্তানি করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৫০০ BASIS সদস্য প্রতিষ্ঠান রপ্তানি কার্যক্রমে যুক্ত ছিল। এর মধ্যে নিয়মিত রপ্তানিকারক ছিল প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, নরওয়ে, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, হংকং, সিঙ্গাপুর ও কানাডা বাংলাদেশের আইটি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বাজার।
কোন ধরনের সফটওয়্যার যাচ্ছে বিদেশে
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া সফটওয়্যারের ধরন এখন বেশ বৈচিত্র্যময়। একটি বড় অংশ তৈরি হচ্ছে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টম সফটওয়্যার হিসেবে। পাশাপাশি দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেদের তৈরি পণ্যও আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে।
এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার ও ERP বাংলাদেশের সফটওয়্যার রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। উৎপাদন, হিসাব, মানবসম্পদ, বিক্রয়, মজুদ ব্যবস্থাপনা, সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যবসায়িক বিশ্লেষণ—এসব কাজের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সফটওয়্যার সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ ধরনের সফটওয়্যারের মধ্যে রয়েছে ERP, HR ও payroll management, accounting software, inventory management, supply-chain management এবং customer relationship management বা CRM।
দেশীয় প্রতিষ্ঠান Pridesys IT Ltd. জানিয়েছে, তারা আট বছরের বেশি সময় ধরে ১৪টি দেশে সফটওয়্যার পণ্য ও আইটি সেবা রপ্তানি করছে। প্রতিষ্ঠানটির সমাধান প্রায় ৪৫টি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আরো পড়ুন: কারিগরি প্রশিক্ষণে কী শেখানো হয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ কতটা
ফিনটেকেও বাংলাদেশের উপস্থিতি
ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রযুক্তি বা ফিনটেক বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্পের আরেকটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সেবা, ঋণ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ওয়ালেট ও আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণের জন্য তৈরি সফটওয়্যার বিদেশি গ্রাহকদের কাছেও যাচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান পেমেন্ট গেটওয়ে, ডিজিটাল লেনদেন, ব্যাংকিং অটোমেশন, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার তৈরি করছে। BASIS-এর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শীর্ষ আইটি ও ITES রপ্তানিকারকদের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তি সক্ষমতার মধ্যে ফিনটেকও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতেও তৈরি হচ্ছে সফটওয়্যার
স্বাস্থ্য প্রযুক্তি বা হেলথটেক এখন বৈশ্বিক সফটওয়্যার বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, রোগীর তথ্য সংরক্ষণ, টেলিমেডিসিন, স্বাস্থ্যবিষয়ক ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসাসেবা পরিচালনার জন্য সফটওয়্যার তৈরি করছে।
BASIS-এর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রপ্তানি স্বীকৃতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে Therap (BD) Limited-ও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সমাধানের সঙ্গে যুক্ত। একই তালিকায় থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি সেবা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করছে।
AI ও ডেটা প্রযুক্তির নতুন বাজার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সফটওয়্যার রপ্তানির ক্ষেত্রও পরিবর্তিত হচ্ছে। আগে যেখানে ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ বা সাধারণ ব্যবসায়িক সফটওয়্যার তৈরির কাজ বেশি ছিল, এখন সেখানে AI, ডেটা অ্যানালিটিকস, মেশিন লার্নিং ও অটোমেশন যুক্ত হচ্ছে।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য AI-ভিত্তিক সফটওয়্যার, ডেটা বিশ্লেষণ, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া অটোমেশন এবং সফটওয়্যার গবেষণা ও উন্নয়নের কাজ করছে বাংলাদেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।
২০২৬ সালের BASIS IT Exporters’ Night-এ স্বীকৃতি পাওয়া শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠান—BJIT, Brain Station 23, ULKASEMI, SELISE Digital Platforms, Cefalo Bangladesh, Samsung R&D Institute Bangladesh, Enosis Solutions, Therap (BD), Radiant Data Systems এবং Data Path—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফটওয়্যার, AI, গবেষণা ও উন্নয়ন, ফিনটেক এবং হেলথটেক সেবা দিচ্ছে।
মোবাইল অ্যাপ ও SaaS
বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য হচ্ছে মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, ই-কমার্স, পরিবহন, যোগাযোগ ও আর্থিক সেবার জন্য তৈরি অ্যাপ বিদেশি গ্রাহকদের কাছে বিক্রি হচ্ছে।
এর পাশাপাশি SaaS বা Software as a Service মডেলও বাড়ছে। এ ধরনের সফটওয়্যার সরাসরি কোনো কম্পিউটারে ইনস্টল না করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। ফলে বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান ঢাকায় বসে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য সফটওয়্যার পরিচালনা করতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত বিধিবিধানেও ইন্টারনেট বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কম্পিউটার সফটওয়্যার এবং ডেটা প্রসেসিং সেবা রপ্তানির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ সফটওয়্যার রপ্তানি এখন শুধু সিডি, ফ্ল্যাশ ড্রাইভ বা কোনো ভৌত মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অনলাইনেই সেবা সরবরাহ ও বৈদেশিক আয় দেশে আনা সম্ভব।
আরো পড়ুন: ইসলামী জীবনধারায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার: ইবাদত থেকে জ্ঞানচর্চায় নতুন সম্ভাবনা
কারা কিনছে বাংলাদেশের সফটওয়্যার
বাংলাদেশি সফটওয়্যারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি জাপান, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও বাংলাদেশি সফটওয়্যার ও আইটি সেবার চাহিদা রয়েছে।
BASIS-এর ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১০৪টির বেশি দেশে সফটওয়্যার ও আইটি সেবা রপ্তানি হচ্ছে। এই তালিকায় উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ রয়েছে।
আগের শিল্প-তথ্যেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান, ডেনমার্ক, জার্মানি, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস ও কানাডাকে বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও আইটি সেবার গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ছোট প্রতিষ্ঠানও
বাংলাদেশের সফটওয়্যার রপ্তানির ক্ষেত্রে শুধু বড় প্রতিষ্ঠান নয়, ছোট ও মাঝারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও ভূমিকা রাখছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সরাসরি বিদেশি ক্লায়েন্টের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করছে। আবার কেউ নিজস্ব SaaS পণ্য তৈরি করে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ব্যবসা করছে।
ফলে সফটওয়্যার রপ্তানির প্রচলিত ধারণাও বদলেছে। আগে একজন বিদেশি ক্লায়েন্টের জন্য একটি সফটওয়্যার তৈরি করে প্রকল্প শেষ করা ছিল প্রধান ব্যবসায়িক মডেল। এখন একই সফটওয়্যার বহু দেশের গ্রাহকের কাছে বিক্রি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এতে সফটওয়্যার রপ্তানির আয় যেমন বাড়তে পারে, তেমনি একটি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতিও তৈরি হয়।
R&D এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ
বাংলাদেশে থাকা গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) কেন্দ্রগুলোও দেশের সফটওয়্যার খাতের আন্তর্জাতিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। Samsung R&D Institute Bangladesh-এর মতো প্রতিষ্ঠান দেশের প্রকৌশলী ও সফটওয়্যার পেশাজীবীদের নিয়ে বৈশ্বিক প্রযুক্তি উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।
BASIS-এর রপ্তানি স্বীকৃতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় এ ধরনের R&D কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ কেবল সফটওয়্যার তৈরির আউটসোর্সিং কেন্দ্র হিসেবে নয়, প্রযুক্তি গবেষণা ও পণ্য উন্নয়নের ক্ষেত্র হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে।
বাড়ছে বৈদেশিক বাজার
বাংলাদেশের আইটি খাতের রপ্তানি কার্যক্রমের পরিধি গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। BASIS-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৫০০ সদস্য প্রতিষ্ঠান কোনো না কোনোভাবে রপ্তানি কার্যক্রমে যুক্ত ছিল এবং প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রপ্তানি করেছে।
সরকারও সফটওয়্যার ও আইটি সেবা রপ্তানিকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BIDA) তথ্য অনুযায়ী, সফটওয়্যার, ITES ও হার্ডওয়্যার রপ্তানির ক্ষেত্রে রপ্তানি প্রণোদনার ব্যবস্থাও রয়েছে।
আরো পড়ুন: খামার ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার: বদলে যাচ্ছে আধুনিক কৃষির চিত্র
চ্যালেঞ্জও রয়েছে
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্পের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। উন্নত দেশগুলোর প্রতিষ্ঠিত সফটওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা, আন্তর্জাতিক মান ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, দক্ষ জনবল ধরে রাখা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড তৈরি এবং বিদেশি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিপণন এসব বিষয়ে আরও সক্ষমতা প্রয়োজন।
এ ছাড়া সফটওয়্যার রপ্তানিতে শুধু কম খরচের শ্রমবাজার হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি যথেষ্ট নয়। উচ্চমূল্যের সফটওয়্যার পণ্য, নিজস্ব প্রযুক্তি, গবেষণা, AI এবং নির্দিষ্ট শিল্পের জন্য বিশেষায়িত সমাধান তৈরি করতে পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য সংযোজন বাড়ানো সম্ভব।
সফটওয়্যারই হতে পারে নতুন রপ্তানি পরিচয়
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাকশিল্পের পর নতুন ধরনের রপ্তানি পণ্যের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। সেই জায়গায় সফটওয়্যার ও আইটি সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কারণ সফটওয়্যার রপ্তানিতে পণ্য পরিবহনের প্রয়োজন নেই। একজন প্রকৌশলী বা ডেভেলপার বাংলাদেশে বসেই বিশ্বের অন্য প্রান্তের গ্রাহককে সেবা দিতে পারেন। একই সফটওয়্যার বহু দেশে বিক্রি করা সম্ভব। ফলে উৎপাদন ও পরিবহনের প্রচলিত খরচ ছাড়াই বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ERP থেকে ফিনটেক, হেলথটেক থেকে AI, মোবাইল অ্যাপ থেকে SaaS বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সেবা আন্তর্জাতিক বাজারে দিচ্ছে। BASIS-এর তথ্য অনুযায়ী, এই রপ্তানি কার্যক্রমের বিস্তৃতি ১০৪টির বেশি দেশে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশের সফটওয়্যার খাতের পরবর্তী বড় সুযোগ তাই শুধু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাজ করে দেওয়া নয়; বরং ‘Made in Bangladesh’ সফটওয়্যার পণ্য তৈরি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। দক্ষ জনবল, গবেষণা, আন্তর্জাতিক মান, সাইবার নিরাপত্তা ও নিজস্ব পণ্য উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে প্রযুক্তি খাত দেশের রপ্তানি অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।