বিশ্বের স্মার্টফোন বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই আলাদা অবস্থান ধরে রেখেছে অ্যাপলের আইফোন। উন্নত ক্যামেরা, শক্তিশালী প্রসেসর, দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার আপডেট, নিরাপত্তা এবং প্রিমিয়াম ডিজাইনের কারণে আইফোনের প্রতি ব্যবহারকারীদের আগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। নতুন প্রজন্মের মডেল বাজারে আসার পর পুরোনো Pro ও Pro Max মডেলের দাম কমে যাওয়ায় সেগুলোও অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

২০২৬ সালে আইফোনের বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে নতুন সিরিজের পাশাপাশি iPhone 16 ও iPhone 15 সিরিজের কয়েকটি মডেলও ব্যবহারকারীদের মধ্যে জনপ্রিয়। কারও কাছে ক্যামেরা ও ভিডিও ধারণ গুরুত্বপূর্ণ, কেউ বড় ডিসপ্লে ও ব্যাটারি চান, আবার কেউ তুলনামূলক কম দামে আইফোনের অভিজ্ঞতা নিতে চান। ফলে ‘জনপ্রিয়’ আইফোনের তালিকায় শুধু সর্বশেষ মডেল নয়, আগের প্রজন্মের কয়েকটি ফোনও জায়গা করে নিয়েছে।

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক বিক্রয় ও জনপ্রিয়তার তালিকা এবং বিভিন্ন মডেলের বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় জনপ্রিয় ১০টি আইফোন নিয়ে এই প্রতিবেদন।

১. আইফোন ১৭

নতুন প্রজন্মের আইফোনগুলোর মধ্যে iPhone 17 অন্যতম আলোচিত মডেল। দৈনন্দিন ব্যবহার, ছবি তোলা, ভিডিও দেখা, গেম খেলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের প্রসেসর এবং উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থার কারণে ফোনটি পারফরম্যান্সের দিক থেকেও শক্তিশালী।

যারা Pro সিরিজের অতিরিক্ত পেশাদার ফিচার না নিয়েও নতুন প্রজন্মের আইফোন ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য iPhone 17 একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। এর ডিজাইন, ডিসপ্লে ও ক্যামেরা ব্যবস্থায় আগের প্রজন্মের তুলনায় বিভিন্ন উন্নয়ন আনা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক বিক্রয়তথ্যেও iPhone 17 উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছে। এতে বোঝা যায়, অ্যাপলের সর্বশেষ সাধারণ মডেলটির প্রতি ব্যবহারকারীদের আগ্রহ রয়েছে।

আরো পড়ুন: পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির ভূমিকা

২. আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স

আইফোনের সবচেয়ে বড় ও প্রিমিয়াম মডেলগুলোর মধ্যে iPhone 17 Pro Max অন্যতম। বড় ডিসপ্লে, উন্নত ক্যামেরা, শক্তিশালী হার্ডওয়্যার এবং দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপের কারণে এটি বিশেষভাবে আলোচিত।

যারা নিয়মিত ভিডিও ধারণ করেন, বড় পর্দায় কনটেন্ট দেখেন কিংবা ভারী কাজের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য Pro Max সিরিজের মডেলগুলো গুরুত্বপূর্ণ। পেশাদার পর্যায়ের ছবি ও ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রেও এর ক্যামেরা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে বড় আকার ও তুলনামূলক বেশি দামের কারণে এটি সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। যাদের বড় ফোন পছন্দ এবং বাজেট বেশি, তাদের মধ্যে এ ধরনের মডেলের চাহিদা বেশি দেখা যায়।

৩. আইফোন ১৭ প্রো

iPhone 17 Pro মূলত Pro Max-এর ছোট আকারের বিকল্প। এতে উচ্চক্ষমতার হার্ডওয়্যার, উন্নত ক্যামেরা এবং প্রিমিয়াম ফিচার রয়েছে। বড় ফোন ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, কিন্তু Pro সিরিজের সুবিধা চান—এমন ব্যবহারকারীদের কাছে মডেলটি আকর্ষণীয়।

ভিডিও এডিটিং, ছবি তোলা, গেমিং ও অন্যান্য ভারী কাজের ক্ষেত্রে ফোনটির প্রসেসিং ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে Pro সিরিজের ক্যামেরা সুবিধা ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করে।

৪. আইফোন ১৭ই

তুলনামূলক কম দামে নতুন প্রজন্মের আইফোনের অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যেই iPhone 17e বাজারে এসেছে। যারা সর্বশেষ প্রযুক্তির আইফোন চান কিন্তু Pro সিরিজের জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করতে চান না, তাদের কাছে এই মডেলটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

17e মডেলে আইফোনের নিজস্ব সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা ও ইকোসিস্টেমের সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে প্রথমবার আইফোন কিনতে চাওয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যেও এ ধরনের মডেলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

৫. আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স

iPhone 17 সিরিজ বাজারে এলেও iPhone 16 Pro Max এখনো অনেক ব্যবহারকারীর কাছে আকর্ষণীয়। এর অন্যতম কারণ হলো Pro Max মডেলের শক্তিশালী ক্যামেরা, বড় ডিসপ্লে ও উচ্চক্ষমতার প্রসেসর।

নতুন সিরিজের তুলনায় আগের প্রজন্মের দাম কিছুটা কমে গেলে 16 Pro Max আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যারা সর্বশেষ মডেলের পেছনে না ছুটে কিছুটা কম দামে প্রিমিয়াম আইফোন কিনতে চান, তাদের কাছে এটি বিবেচনার সুযোগ তৈরি করে।

আরো পড়ুন:বিশ্বের সেরা গাড়িতে যে প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে ড্রাইভিং

৬. আইফোন ১৬ প্রো

ছোট আকারের ফোনে Pro সিরিজের সুবিধা চান—এমন ব্যবহারকারীদের জন্য iPhone 16 Pro গুরুত্বপূর্ণ। এর ক্যামেরা ব্যবস্থা, প্রসেসর ও ডিসপ্লে প্রযুক্তি এখনো অনেক কাজের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী।

ফটোগ্রাফি, ভিডিও ধারণ, গেমিং এবং দৈনন্দিন অফিসের কাজ—সব ক্ষেত্রেই ফোনটি ব্যবহার করা যায়। Pro Max-এর তুলনায় আকারে ছোট হওয়ায় এক হাতে ব্যবহারের সুবিধাও কিছু ব্যবহারকারীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

৭. আইফোন ১৬

iPhone 16 সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আইফোনের অন্যতম জনপ্রিয় মডেল। এতে আধুনিক প্রসেসর, উন্নত ক্যামেরা এবং অ্যাপলের সফটওয়্যার সুবিধা রয়েছে।

সাধারণত যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ছবি তোলা, ভিডিও দেখা, অনলাইন মিটিং, মোবাইল ব্যাংকিং ও দৈনন্দিন কাজের জন্য ফোন ব্যবহার করেন, তাদের প্রয়োজন মেটাতে iPhone 16 যথেষ্ট সক্ষম।

নতুন প্রজন্মের মডেল বাজারে আসার পর আগের সিরিজের দাম ও বাজারমূল্যে পরিবর্তন আসায় iPhone 16 আরও বেশি মানুষের নাগালের মধ্যে আসতে পারে।

৮. আইফোন এয়ার

পাতলা ও হালকা ডিজাইনের দিকে নজর দিয়ে তৈরি iPhone Air আইফোন পরিবারের নতুন ধরনের একটি সংযোজন। বর্তমান সময়ে অনেক ব্যবহারকারী বড় ও ভারী ফোনের পরিবর্তে পাতলা এবং সহজে বহনযোগ্য ডিভাইস পছন্দ করেন।

ডিজাইনের দিক থেকে আলাদা পরিচিতি তৈরি করাই এই মডেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যারা ফোনের ওজন ও পুরুত্বকে গুরুত্ব দেন, তাদের কাছে iPhone Air আকর্ষণীয় হতে পারে।

তবে পাতলা ডিজাইনের পাশাপাশি ক্যামেরা, ব্যাটারি ও পারফরম্যান্সের ভারসাম্যও ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে কেনার আগে নিজের ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরো পড়ুন: শ্রমনির্ভর শিল্প থেকে প্রযুক্তি ও দক্ষতানির্ভর শিল্পে রূপান্তরই হতে পারে বাংলাদেশের বস্ত্রখাতের পরবর্তী বড় অগ্রযাত্রা

৯. আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স

iPhone 15 Pro Max এখনো আইফোনপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় একটি মডেল। বিশেষ করে এর ক্যামেরা, শক্তিশালী প্রসেসর, বড় ডিসপ্লে এবং উন্নত ভিডিও ধারণ সক্ষমতা ফোনটিকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য আকর্ষণীয় করেছে।

নতুন প্রজন্মের ফোন বাজারে আসার পর আগের Pro Max মডেলের দাম তুলনামূলক কমে গেলে সেটি আরও বেশি ক্রেতার কাছে বিবেচনাযোগ্য হয়ে ওঠে। সর্বশেষ প্রযুক্তি না হলেও উচ্চক্ষমতার ফোন চান—এমন ব্যবহারকারীদের জন্য পুরোনো Pro Max মডেলগুলো অনেক সময় কার্যকর বিকল্প হয়ে থাকে।

১০. আইফোন ১৫

আইফোন ১৫ তুলনামূলক কম দামে আইফোনের আধুনিক অভিজ্ঞতা পাওয়ার একটি পথ তৈরি করেছে। নতুন প্রজন্মের তুলনায় এটি পুরোনো হলেও সাধারণ ব্যবহারকারীদের অনেক প্রয়োজন পূরণ করতে সক্ষম।

ছবি তোলা, ভিডিও দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, অনলাইন ক্লাস, অফিসের কাজ ও বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারে ফোনটি এখনো কার্যকর। বিশেষ করে নতুন মডেলের দাম বেশি মনে হলে আগের প্রজন্মের আইফোন অনেক ক্রেতার পছন্দের তালিকায় থাকে।

কেন আইফোন এখনো জনপ্রিয়

আইফোনের জনপ্রিয়তার পেছনে শুধু হার্ডওয়্যার নয়, অ্যাপলের পুরো ইকোসিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। iPhone, Apple Watch, AirPods, iPad ও Mac-এর মধ্যে সমন্বিত ব্যবহারের সুবিধা অনেক ব্যবহারকারীকে একই ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করে।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় সফটওয়্যার আপডেট পাওয়া আইফোনের অন্যতম সুবিধা। নিরাপত্তা আপডেট, অপারেটিং সিস্টেমের নতুন ফিচার এবং অ্যাপলের নিজস্ব প্রসেসরের উন্নত কর্মক্ষমতাও ব্যবহারকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যামেরার ক্ষেত্রেও আইফোনের আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশেষ করে ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে রঙ, স্ট্যাবিলাইজেশন, অডিও এবং সফটওয়্যার প্রসেসিংয়ের সমন্বয় আইফোনকে কনটেন্ট নির্মাতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

কোন ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য কোনটি

আইফোন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবার প্রয়োজন এক নয়। যারা সর্বশেষ প্রযুক্তি চান, তারা নতুন প্রজন্মের মডেল বিবেচনা করতে পারেন। বড় ডিসপ্লে ও বেশি ব্যাটারি প্রয়োজন হলে Pro Max সিরিজ প্রাসঙ্গিক। ক্যামেরা ও ভারী কাজকে গুরুত্ব দিলে Pro সিরিজের মডেলগুলো বিবেচনায় আসতে পারে।

অন্যদিকে সাধারণ ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ছবি তোলা এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য সাধারণ সিরিজের আইফোন যথেষ্ট হতে পারে। বাজেট সীমিত হলে আগের প্রজন্মের iPhone 15 বা iPhone 16 সিরিজের মডেলও বিবেচনা করা যায়।

তবে বাংলাদেশে আইফোন কেনার ক্ষেত্রে শুধু মডেল ও দাম নয়, ডিভাইসের বৈধতা, ওয়ারেন্টি, সিম সুবিধা, স্টোরেজ এবং বিক্রেতার নির্ভরযোগ্যতাও যাচাই করা জরুরি।

আইফোনের জনপ্রিয়তার তালিকা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। নতুন মডেল বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে আগের মডেলের দাম, বিক্রয় এবং ব্যবহারকারীদের আগ্রহেও পরিবর্তন আসে। তাই শুধু সর্বশেষ মডেলই সবার জন্য উপযুক্ত—এমন নয়।

ব্যবহারকারীর বাজেট, ক্যামেরার প্রয়োজন, ডিসপ্লের আকার, ব্যাটারি, গেমিং, কাজের ধরন এবং কত বছর ফোনটি ব্যবহার করতে চান—এসব বিষয় বিবেচনা করেই মডেল নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে iPhone 17 সিরিজের পাশাপাশি iPhone 16 ও iPhone 15 সিরিজের কয়েকটি মডেলও ব্যবহারকারীদের আগ্রহ ধরে রেখেছে।