একসময় গাড়ির সক্ষমতা বিচার করা হতো ইঞ্জিনের শক্তি, সর্বোচ্চ গতি ও আরামের ওপর ভিত্তি করে। এখন সেই হিসাব অনেকটাই বদলে গেছে। আধুনিক গাড়ি হয়ে উঠছে চার চাকার কম্পিউটার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উন্নত সেন্সর, ক্যামেরা, রাডার, লিডার, জিপিএস, শক্তিশালী কম্পিউটিং ব্যবস্থা এবং ইন্টারনেট সংযোগের সমন্বয়ে গাড়ি এখন শুধু চালকের নির্দেশ পালন করে না; বরং আশপাশের পরিবেশ বুঝে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে চালককে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
বিশ্বের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতারা এই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। Mercedes-Benz, BMW, Tesla, Toyota, Audi, Porsche, Volvo Cars, Lexusসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড গাড়িকে আরও নিরাপদ, আরামদায়ক ও বুদ্ধিমান করতে নতুন নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করছে।
গাড়িতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
আধুনিক গাড়ির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে। গাড়িতে থাকা ক্যামেরা ও সেন্সর থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করে এআই তা বিশ্লেষণ করে। সামনে কোনো গাড়ি, পথচারী, সাইকেল আরোহী কিংবা রাস্তার প্রতিবন্ধকতা থাকলে সেটি শনাক্ত করার পাশাপাশি গাড়ির গতি ও দূরত্ব বিবেচনা করে চালককে সতর্ক করতে পারে।
এআইভিত্তিক ব্যবস্থা চালকের আচরণও বিশ্লেষণ করতে পারে। চালক ক্লান্ত কি না, মনোযোগ হারাচ্ছেন কি না কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালাচ্ছেন কি না—এসব বিষয় শনাক্ত করার প্রযুক্তিও ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে।
ফলে গাড়ি আর শুধু যান্ত্রিক যান নয়; বরং পরিস্থিতি বুঝতে সক্ষম একটি বুদ্ধিমান পরিবহনব্যবস্থায় পরিণত হচ্ছে।
লিডার প্রযুক্তিতে চারপাশের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র
স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তিতে লিডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। লেজার আলো ব্যবহার করে লিডার গাড়ির চারপাশের বস্তু শনাক্ত করে এবং সেগুলোর দূরত্ব ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য তৈরি করে।
ক্যামেরা যেখানে ছবি দেখে পরিবেশ বোঝার চেষ্টা করে, লিডার সেখানে ত্রিমাত্রিক তথ্য তৈরিতে সহায়তা করে। ফলে গাড়ি সামনে থাকা বস্তু কত দূরে, কোন দিকে রয়েছে এবং সেটি গাড়ির গতিপথে কতটা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এসব বিষয়ে আরও নির্ভুল ধারণা পাওয়া সম্ভব।
বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিংয়ের উন্নত পর্যায়ে ক্যামেরা, রাডার ও লিডারকে একসঙ্গে ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়ছে।
আরো পড়ুন: যেসব প্রযুক্তির ব্যবহারে ইরানের কাছে চাপে যুক্তরাষ্ট্র
রাডার ও ক্যামেরায় নজরদারি
আধুনিক গাড়ির নিরাপত্তাব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রাডার। গাড়ির সামনে বা পাশে থাকা অন্য যানবাহন শনাক্ত করতে রাডার ব্যবহার করা হয়। কোনো গাড়ি হঠাৎ সামনে চলে এলে কিংবা সামনে থাকা গাড়ির গতি কমে গেলে সিস্টেম তা বুঝতে পারে।
অন্যদিকে ক্যামেরা লেনের দাগ, ট্রাফিক সাইন, পথচারী ও অন্যান্য দৃশ্যমান বিষয় শনাক্ত করতে সাহায্য করে। দুই প্রযুক্তির তথ্য একত্র করে গাড়ির কম্পিউটার আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে পূর্ণাঙ্গ ধারণা তৈরি করতে পারে।
স্বয়ংক্রিয় জরুরি ব্রেকিং
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে স্বয়ংক্রিয় জরুরি ব্রেকিং বা অটোমেটিক ইমার্জেন্সি ব্রেকিং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হয়ে উঠেছে। সামনে সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি হলে প্রথমে চালককে সতর্ক করা হয়। চালক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি অনুযায়ী গাড়ি নিজেই ব্রেক প্রয়োগ করতে পারে।
এই প্রযুক্তি বিশেষ করে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় সামনে থাকা গাড়ি বা পথচারীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
লেন কিপিং প্রযুক্তি
দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর সময় অনেক চালক অনিচ্ছাকৃতভাবে লেন থেকে সরে যেতে পারেন। লেন কিপিং অ্যাসিস্ট এ ধরনের পরিস্থিতি শনাক্ত করে চালককে সতর্ক করতে পারে। কিছু উন্নত ব্যবস্থায় স্টিয়ারিংয়ে সামান্য নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করে গাড়িকে নিজ লেনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও করা হয়।
এর ফলে মহাসড়কে দীর্ঘ যাত্রার সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা পাওয়া যায়।
স্বয়ংক্রিয় লেন পরিবর্তন
নতুন প্রজন্মের গাড়িতে শুধু লেন ধরে রাখাই নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী লেন পরিবর্তনে সহায়তা করার প্রযুক্তিও যুক্ত হচ্ছে। পাশের লেনে গাড়ি আছে কি না, পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে কি না এবং লেন পরিবর্তন নিরাপদ কি না—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সিস্টেম চালককে সহায়তা করতে পারে।
তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও চালকের সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ সব ধরনের রাস্তা, আবহাওয়া ও ট্রাফিক পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা একইভাবে কাজ নাও করতে পারে।
হাইওয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট
মহাসড়কে দীর্ঘ পথ চলার জন্য অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। গাড়ি নির্দিষ্ট গতি বজায় রাখা, সামনে থাকা গাড়ির সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব রাখা এবং লেনের অবস্থান ঠিক রাখার মতো কাজে চালককে সহায়তা করতে পারে।
কিছু উন্নত গাড়িতে নির্দিষ্ট শর্তে হ্যান্ডস-ফ্রি ড্রাইভিংয়ের সুবিধাও পাওয়া যায়। তবে এটি সম্পূর্ণ চালকবিহীন ব্যবস্থা নয়। চালককে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হয় এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে হয়।
আরো পড়ুন: হিমালয়ে হিমধসে নিহতদের উদ্ধারে প্রযুক্তির ব্যবহার
Level 3 স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং
স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিংয়ের ক্ষেত্রে Level 3 প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই পর্যায়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গাড়ি নিজেই ড্রাইভিংয়ের কিছু দায়িত্ব নিতে পারে।
Mercedes-Benz-এর DRIVE PILOT এর একটি উদাহরণ। এতে লিডার, ক্যামেরা, রাডার, আল্ট্রাসনিক সেন্সর ও অবস্থান নির্ণয়ের প্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ করে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি নির্দিষ্ট রাস্তা, গতি, আবহাওয়া ও আইনগত শর্তের মধ্যে পরিচালিত হয়।
অর্থাৎ Level 3 মানেই গাড়ি সব পরিস্থিতিতে চালক ছাড়াই চলবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।
স্মার্ট ককপিট
গাড়ির ভেতরের প্রযুক্তিতেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে ড্যাশবোর্ডে কয়েকটি মিটার ও বোতাম থাকলেও এখন বড় ডিজিটাল ডিসপ্লে, ভয়েস কমান্ড, নেভিগেশন, স্মার্টফোন সংযোগ ও বিভিন্ন অনলাইন সেবা যুক্ত হচ্ছে।
চালক ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে নেভিগেশন চালু করা, ফোন করা, গান পরিবর্তন করা কিংবা গাড়ির বিভিন্ন ফিচার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। কিছু গাড়িতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টও যুক্ত হয়েছে।
৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা
পার্কিংকে সহজ ও নিরাপদ করতে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা ব্যবহৃত হচ্ছে। গাড়ির সামনে, পেছনে ও বিভিন্ন পাশে থাকা ক্যামেরার ছবি একত্র করে গাড়ির ওপর থেকে দেখা হচ্ছে—এমন একটি ভার্চুয়াল দৃশ্য তৈরি করা হয়।
সরু জায়গায় পার্কিং, দেয়ালের কাছাকাছি যাওয়া কিংবা অদৃশ্য কোণ পর্যবেক্ষণে এই প্রযুক্তি চালককে সহায়তা করে।
স্বয়ংক্রিয় পার্কিং
পার্কিং প্রযুক্তিতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। গাড়ি পার্কিংয়ের উপযুক্ত জায়গা শনাক্ত করে নিজেই স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে পার্কিং সম্পন্ন করতে পারে—এমন প্রযুক্তি এখন অনেক আধুনিক গাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে।
কিছু ব্যবস্থায় চালক গাড়ির বাইরে থেকেও স্মার্টফোন বা রিমোটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় গাড়িকে পার্কিং বা বের করার নির্দেশ দিতে পারেন।
হাইব্রিড প্রযুক্তির বিস্তার
পরিবেশ দূষণ ও জ্বালানি খরচ কমানোর জন্য হাইব্রিড প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হাইব্রিড গাড়িতে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়।
Toyota এই প্রযুক্তিকে দীর্ঘদিন ধরে উন্নত করে আসছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক মোটরের সমন্বয় গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে পারে।
একই সঙ্গে প্লাগ-ইন হাইব্রিড প্রযুক্তিও জনপ্রিয় হচ্ছে। এতে ব্যাটারি বাইরে থেকে চার্জ করা যায় এবং নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত শুধু বৈদ্যুতিক শক্তিতে গাড়ি চালানো সম্ভব।
আরো পড়ুন: যেসব আইটি প্রশিক্ষণ বদলে দেবে জীবন
পুরোপুরি বৈদ্যুতিক গাড়ি
বিশ্বের গাড়ি শিল্পের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো বৈদ্যুতিক গাড়ির বিস্তার। ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে একবার চার্জে আগের তুলনায় বেশি দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব হচ্ছে।
ইলেকট্রিক গাড়িতে প্রচলিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহৃত হয়। এতে জ্বালানি পোড়ানোর প্রয়োজন নেই এবং গাড়ির যান্ত্রিক অংশও তুলনামূলকভাবে কম।
Tesla বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি প্রায় সব বড় গাড়ি নির্মাতাই এখন নিজস্ব বৈদ্যুতিক গাড়ির মডেল বাজারে আনছে।
সফটওয়্যার আপডেটে বদলে যায় গাড়ির সক্ষমতা
আধুনিক গাড়ির আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো সফটওয়্যারনির্ভরতা। আগে গাড়ির কোনো প্রযুক্তি উন্নত করতে যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতো। এখন অনেক ক্ষেত্রে সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে গাড়ির বিভিন্ন ফিচার উন্নত করা সম্ভব।
ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে কিছু গাড়িতে দূর থেকে সফটওয়্যার আপডেট পাঠানো হয়। ফলে গাড়ি কেনার পরও এর কিছু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পরিবর্তন বা উন্নত করা সম্ভব হয়।
ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা
ইলেকট্রিক গাড়ির মূল শক্তি ব্যাটারি। তাই ব্যাটারির তাপমাত্রা, চার্জের মাত্রা, শক্তি ব্যবহারের হার এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য উন্নত ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।
ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে বা চার্জের কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে সিস্টেম সতর্ক করতে পারে। ব্যাটারির আয়ু বাড়ানো এবং নিরাপদে শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ।
গাড়ি এখন যোগাযোগ করতে পারছে
ভবিষ্যতের গাড়ি শুধু চালক ও রাস্তার সঙ্গে নয়, অন্য গাড়ি ও অবকাঠামোর সঙ্গেও যোগাযোগ করবে। এই ধারণাকে বলা হয় V2V বা Vehicle-to-Vehicle এবং V2I বা Vehicle-to-Infrastructure যোগাযোগ।
এর মাধ্যমে সামনে দুর্ঘটনা, যানজট কিংবা রাস্তার ঝুঁকি সম্পর্কে গাড়ি আগেই তথ্য পেতে পারে। ট্রাফিক সিগন্যালের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে জ্বালানি বা ব্যাটারি ব্যবহারের দক্ষতাও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা
গাড়ি নির্মাতাদের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে এখন নিরাপত্তা। শুধু দ্রুতগতির গাড়ি তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; দুর্ঘটনা হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং চালককে সতর্ক করাই হয়ে উঠছে বড় লক্ষ্য।
এ কারণেই আধুনিক গাড়িতে এয়ারব্যাগের পাশাপাশি অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, ব্লাইন্ড-স্পট মনিটরিং, ট্রাফিক সাইন রিকগনিশন, জরুরি ব্রেকিং, লেন কিপিং, চালকের মনোযোগ পর্যবেক্ষণসহ নানা প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে।
বদলে যাচ্ছে গাড়ির ভবিষ্যৎ
গাড়ি শিল্প এখন যান্ত্রিক প্রকৌশল থেকে সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটানির্ভর প্রযুক্তির দিকে দ্রুত এগোচ্ছে। ভবিষ্যতের গাড়ি শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মানুষকে পৌঁছে দেবে না; বরং চালকের সহকারী, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক এবং ব্যক্তিগত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করবে।
তবে প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং এখনো সব পরিস্থিতিতে মানুষের বিকল্প হয়ে ওঠেনি। বিভিন্ন দেশের আইন, রাস্তার অবস্থা, আবহাওয়া ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে চালকের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ থাকছে।
সব মিলিয়ে বিশ্বের সেরা গাড়ি নির্মাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা এখন শুধু কে সবচেয়ে দ্রুত বা বিলাসবহুল গাড়ি তৈরি করতে পারে—সেখানে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিযোগিতা চলছে কে গাড়িকে সবচেয়ে নিরাপদ, বুদ্ধিমান, পরিবেশবান্ধব এবং চালকের জন্য সহজ করে তুলতে পারে—তা নিয়ে। আর সেই প্রতিযোগিতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেন্সর, স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং, বৈদ্যুতিক শক্তি ও সফটওয়্যারই হয়ে উঠছে ভবিষ্যতের গাড়ির প্রধান চালিকাশক্তি।