জমির সীমানা নির্ধারণ, দাগ নম্বর চিহ্নিত করা, মৌজা ম্যাপ তৈরি কিংবা খতিয়ান প্রস্তুত ভূমি জরিপের এসব কাজ দীর্ঘদিন ধরেই মাঠপর্যায়ে প্রচলিত পদ্ধতিতে হয়ে আসছে। হাতে আঁকা নকশা, পুরোনো রেকর্ড, ফিতা বা প্রচলিত যন্ত্রের পাশাপাশি জরিপকারীদের অভিজ্ঞতার ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করতে হয়। ফলে কোথাও সীমানা নিয়ে বিরোধ, কোথাও নকশায় ভুল, আবার কোথাও পুরোনো তথ্যের সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার অমিল তৈরি হয়।
ডিজিটাল যুগে এসে ভূমি জরিপের এই চিত্র বদলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্যাটেলাইট, ড্রোন, জিপিএস বা GNSS, RTK, GIS, LiDAR, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ক্লাউড ডেটাবেস এবং থ্রিডি ম্যাপিংয়ের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূমি জরিপকে আরও দ্রুত, নির্ভুল ও স্বচ্ছ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার শুধু জমির মাপজোখের কাজ সহজ করবে না; বরং ভূমির মালিকানা, দাগ, খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ ও জমির অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার পথও তৈরি করবে।
জিপিএস ও RTK-তে নির্ভুল সীমানা
আধুনিক ভূমি জরিপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলোর একটি হলো GNSS বা Global Navigation Satellite System। স্যাটেলাইটের সংকেত ব্যবহার করে জমির নির্দিষ্ট অবস্থান ও স্থানাঙ্ক নির্ধারণ করা যায়। এর আরও উন্নত সংস্করণ RTK বা Real-Time Kinematic প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে জমির সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব।
একজন জরিপকারী মাঠে RTK যন্ত্র নিয়ে জমির বিভিন্ন কোণ বা সীমারেখার পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেন। এসব তথ্য সরাসরি ডিজিটাল ডেটা হিসেবে সংরক্ষণ করা যায়। ফলে কাগজে হাতে লেখা তথ্য থেকে পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল রূপান্তরের প্রয়োজন কমে আসে এবং তথ্য হারানো বা ভুলভাবে স্থানান্তরের ঝুঁকিও কমে।
একই সঙ্গে একই জমির অবস্থান পরবর্তী সময়ে আবার যাচাই করাও সহজ হয়। জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে সংরক্ষিত স্থানাঙ্ক ব্যবহার করে তুলনা করা যেতে পারে।
ড্রোনে কয়েক ঘণ্টায় বড় এলাকার ছবি
ভূমি জরিপে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ক্যামেরা বা বিভিন্ন সেন্সরযুক্ত ড্রোন দিয়ে একটি বিস্তীর্ণ এলাকার উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি সংগ্রহ করা যায়। পরে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে এসব ছবি বিশ্লেষণ করে ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করা সম্ভব।
একটি এলাকায় জমির সীমানা, রাস্তা, ভবন, পুকুর, খাল, নদী কিংবা অন্যান্য স্থাপনা কোথায় রয়েছে—ড্রোনের ছবি থেকে এসব তথ্য শনাক্ত করা যায়। দুর্গম এলাকা বা যেখানে মাঠপর্যায়ে জরিপ করতে বেশি সময় লাগে, সেখানেও ড্রোন কার্যকর হতে পারে।
বিশেষ করে বড় আকারের ভূমি জরিপ প্রকল্পে ড্রোন ব্যবহার করলে মাঠকর্মীদের কাজের পরিমাণ কমানো এবং দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। তবে ড্রোনের তথ্যকে চূড়ান্ত আইনি সীমানা হিসেবে ব্যবহারের আগে মাঠপর্যায়ের যাচাই ও অনুমোদিত জরিপ পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় করা জরুরি।
আরো পড়ুন: আসামি ধরতে পুলিশের হাতে আধুনিক প্রযুক্তির ১৫ অস্ত্র
GIS-এ একই মানচিত্রে সব তথ্য
ভূমি ব্যবস্থাপনায় GIS বা Geographic Information System গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। GIS এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কোনো এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে বিভিন্ন তথ্য যুক্ত করে রাখা যায়।
একটি ডিজিটাল মানচিত্রে দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, জমির আয়তন, মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য, রাস্তা, নদী, খাল, সরকারি জমি, জলাশয়সহ বিভিন্ন তথ্য স্তরভিত্তিকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব।
এর ফলে কোনো নির্দিষ্ট জমির তথ্য খুঁজতে পুরোনো কাগজের নথি ঘেঁটে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হবে না। নির্দিষ্ট দাগ বা অবস্থান নির্বাচন করলেই সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
তবে ভূমির মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এ ধরনের ডেটাবেসে প্রবেশাধিকার, তথ্যের নিরাপত্তা ও পরিবর্তনের ইতিহাস সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
স্যাটেলাইট ছবিতে বদল শনাক্ত
স্যাটেলাইট ইমেজারি ব্যবহার করে বড় এলাকার ভূমির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা যায়। সময়ের ব্যবধানে তোলা একাধিক স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে কোনো এলাকায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন, নতুন স্থাপনা তৈরি, জলাশয় ভরাট, ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন কিংবা নগরায়ণের বিস্তার শনাক্ত করা সম্ভব।
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে পরিকল্পিত ভূমি ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শহরাঞ্চলে দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূমির ব্যবহার পর্যবেক্ষণ এবং গ্রামাঞ্চলে কৃষিজমি, জলাশয় বা প্রাকৃতিক সম্পদের পরিবর্তন নজরদারিতেও স্যাটেলাইট তথ্য কাজে লাগানো যেতে পারে।
LiDAR-এ তৈরি হবে ত্রিমাত্রিক মানচিত্র
ভূমি জরিপে LiDAR প্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করছে। লেজার পালস ব্যবহার করে LiDAR ভূমির পৃষ্ঠের ত্রিমাত্রিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
এর মাধ্যমে শুধু জমির সীমানা নয়, ভূমির উচ্চতা-নিচু, ঢাল ও ভৌগোলিক গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। বন্যাপ্রবণ এলাকা, নদীভাঙনপ্রবণ অঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা কিংবা বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ভূমি বিশ্লেষণে এ প্রযুক্তি বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে।
একই সঙ্গে নগর পরিকল্পনা, সড়ক নির্মাণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও LiDAR-ভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করা সম্ভব।
আরো পড়ুন: ঘরে বসেই অনলাইনে আয়, বদলে যাচ্ছে কর্মসংস্থানের ধারণা
AI শনাক্ত করবে তথ্যের অসঙ্গতি
ভূমি জরিপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI যুক্ত হলে তথ্য বিশ্লেষণের কাজ আরও দ্রুত হতে পারে। পুরোনো মৌজা ম্যাপ, নতুন জরিপের তথ্য, স্যাটেলাইট ছবি ও ড্রোনের ছবি বিশ্লেষণ করে AI সম্ভাব্য অসঙ্গতি শনাক্ত করতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, পুরোনো নকশায় যে জমির আকৃতি বা সীমানা রয়েছে, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে তার বড় ধরনের পার্থক্য আছে কি না—তা শনাক্ত করার ক্ষেত্রে AI সহায়ক হতে পারে।
একইভাবে একটি এলাকার অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য তা চিহ্নিত করে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
তবে AI-এর সিদ্ধান্তকে সরাসরি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ না করে এটিকে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করাই নিরাপদ। কারণ ভূমি মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণের মতো বিষয়ে আইনি নথি, মাঠপর্যায়ের যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মোবাইল অ্যাপেই মাঠের তথ্য
ভূমি জরিপের মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহে স্মার্টফোন বা ট্যাবভিত্তিক GIS অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। জরিপকারী সরাসরি মোবাইল ডিভাইসে জমির স্থানাঙ্ক, ছবি, নোট ও অন্যান্য তথ্য যুক্ত করতে পারবেন।
প্রয়োজনে জমির নির্দিষ্ট পয়েন্টের ছবি তুলে তার সঙ্গে স্থানাঙ্ক যুক্ত করা যেতে পারে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় সার্ভারে পাঠানো সম্ভব। সংযোগ না থাকলেও অনেক অ্যাপে অফলাইন ডেটা সংগ্রহ করে পরে সার্ভারে আপলোডের ব্যবস্থা রাখা যায়।
এতে কাগজের ফরম কমবে, তথ্য ডিজিটাইজেশনের সময় কমবে এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য দ্রুত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় যুক্ত করা সম্ভব হবে।
ক্লাউডে থাকবে ভূমির তথ্য
ভূমি জরিপের বিপুল তথ্য সংরক্ষণের জন্য ক্লাউডভিত্তিক ডেটাবেস ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণ ও বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে।
তবে ক্লাউড ব্যবস্থার সঙ্গে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। কারা কোন তথ্য দেখতে পারবেন, কারা তথ্য পরিবর্তন করতে পারবেন এবং কোনো তথ্য পরিবর্তন হলে তার রেকর্ড কীভাবে সংরক্ষিত হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে।
ব্লকচেইনে রেকর্ডের নিরাপত্তা
ভূমি রেকর্ডের পরিবর্তনের ইতিহাস সংরক্ষণে ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা রয়েছে। কোনো রেকর্ড কখন তৈরি হয়েছে, কখন পরিবর্তন হয়েছে এবং কে পরিবর্তন করেছে—এ ধরনের তথ্যের নির্ভরযোগ্য লগ সংরক্ষণে ব্লকচেইন সহায়ক হতে পারে।
তবে শুধু ব্লকচেইন ব্যবহার করলেই ভূমি জালিয়াতি পুরোপুরি বন্ধ হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। সঠিক তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, আইনি কাঠামো এবং শক্তিশালী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পর এ ধরনের প্রযুক্তি কার্যকর ফল দিতে পারে।
3D ম্যাপিংয়ে নতুন সম্ভাবনা
ভবিষ্যতের ভূমি জরিপে ত্রিমাত্রিক বা 3D ম্যাপিং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে একটি জমির ওপর থাকা ভবন, রাস্তা, ইউটিলিটি অবকাঠামো এবং আশপাশের স্থাপনাগুলোকে ত্রিমাত্রিকভাবে দেখানো সম্ভব।
নগর পরিকল্পনা, ভবন নির্মাণের অনুমোদন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের ডিজিটাল মডেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরো পড়ুন: তথ্যপ্রযুক্তির ছায়ায় বদলে যাচ্ছে ব্যাংক-বীমা খাত
কমতে পারে ভূমি বিরোধ
প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি জরিপের অন্যতম বড় সম্ভাব্য সুফল হলো জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ কমানো। একই জমির পুরোনো ও নতুন তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকলে বিরোধের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
তবে প্রযুক্তি নিজে কোনো বিরোধের আইনি নিষ্পত্তি করবে না। বরং নির্ভুল ও সহজে যাচাইযোগ্য তথ্য সরবরাহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে।
প্রয়োজন প্রশিক্ষিত জনবল
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হলে শুধু যন্ত্রপাতি কিনলেই হবে না। প্রয়োজন দক্ষ জনবল। GNSS, RTK, ড্রোন, GIS, LiDAR, স্যাটেলাইট ইমেজারি এবং AI-ভিত্তিক সফটওয়্যার পরিচালনায় প্রশিক্ষিত জরিপকারী ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ প্রয়োজন হবে।
একই সঙ্গে পুরোনো কাগজের রেকর্ড ডিজিটাইজ করার জন্য বড় পরিসরে ডেটা যাচাইয়ের কাজও করতে হবে। ভুল তথ্য ডিজিটাল ডেটাবেসে ঢুকে গেলে প্রযুক্তির ব্যবহার করেও সমস্যার সমাধান হবে না।
এক প্ল্যাটফর্মে ভূমির পূর্ণাঙ্গ তথ্য
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, ভূমি জরিপ আধুনিকায়নের সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ভূমি তথ্যব্যবস্থা তৈরি করা। যেখানে একটি জমির দাগ নম্বর, খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ, সঠিক স্থানাঙ্ক, আয়তন, ভূমির শ্রেণি এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড একই ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবে।
এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে RTK/GNSS ও মোবাইল GIS দিয়ে তথ্য সংগ্রহ, ড্রোন ও স্যাটেলাইট দিয়ে ভৌগোলিক তথ্য যাচাই, GIS-এ ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি এবং ক্লাউডে তথ্য সংরক্ষণ করা যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী AI তথ্য বিশ্লেষণ করবে এবং পরিবর্তন বা অসঙ্গতি শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।
চ্যালেঞ্জও কম নয়
তবে প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি জরিপ বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির উচ্চ ব্যয়, প্রশিক্ষিত জনবলের ঘাটতি, পুরোনো নথির মান, তথ্যের অসঙ্গতি, সাইবার নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে তথ্য সমন্বয়ের অভাব বড় বাধা হতে পারে।
এ ছাড়া জমির মালিকানা ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্য কারা ব্যবহার করতে পারবেন এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারবেন, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রযুক্তির পাশাপাশি আইন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং মাঠপর্যায়ের যাচাই ব্যবস্থাকেও আধুনিক করতে হবে।
বদলে যেতে পারে ভূমি ব্যবস্থাপনা
বাংলাদেশে ভূমি নিয়ে মানুষের ভোগান্তির একটি বড় অংশ রেকর্ড, সীমানা ও মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে যুক্ত। আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এসব সমস্যা একদিনে দূর করবে না, তবে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড ব্যবস্থাপনাকে আরও নির্ভুল, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ড্রোন আকাশ থেকে জমির ছবি তুলবে, GNSS ও RTK নির্ধারণ করবে সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক, GIS তৈরি করবে ডিজিটাল মানচিত্র, স্যাটেলাইট দেখাবে সময়ের সঙ্গে ভূমির পরিবর্তন, LiDAR তৈরি করবে ত্রিমাত্রিক তথ্য আর AI বিশ্লেষণ করবে বিপুল পরিমাণ ডেটা। এসব প্রযুক্তি যদি একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় যুক্ত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতের ভূমি জরিপ আর শুধু মাঠে মাপজোখের কাজ থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে একটি ডেটাভিত্তিক, ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা।
সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, নির্ভরযোগ্য ডেটা এবং শক্তিশালী আইনগত কাঠামোর সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলে ভূমি জরিপে আসতে পারে বড় পরিবর্তন। এতে একদিকে জরিপের সময় ও ব্যয় কমতে পারে, অন্যদিকে বাড়তে পারে তথ্যের নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা। আর দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পেতে পারেন দেশের কোটি কোটি ভূমিমালিক ও সাধারণ মানুষ।