প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাড়ছে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিধি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত প্রকৌশল বিষয়ের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, ডেটা সায়েন্স, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংসহ নতুন নতুন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে অর্থনীতি, শিল্প, চিকিৎসা, কৃষি, যোগাযোগ, পরিবহন ও প্রতিরক্ষাসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিষয়গুলোর পরিধিও আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হয়েছে। একসময় প্রকৌশল শিক্ষা মূলত সিভিল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো কয়েকটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এসব বিষয়ের ভেতরেই তৈরি হয়েছে অসংখ্য বিশেষায়িত শাখা।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটেও সিভিল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা চালু রয়েছে।

কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সবচেয়ে বিস্তৃত ক্ষেত্রগুলোর একটি কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE), কম্পিউটার সায়েন্স, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন টেকনোলজি (IT), ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (ICT) এবং ইনফরমেশন সিস্টেমস এ ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বিষয়।

এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং, বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস, সাইবার সিকিউরিটি, ক্লাউড কম্পিউটিং, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডেটাবেজ সিস্টেম, কম্পিউটার ভিশন, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং, কম্পিউটার গ্রাফিকস, রোবটিকস, ইন্টারনেট অব থিংস (IoT), এমবেডেড সিস্টেমস ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো বিষয়ও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে।

প্রযুক্তির নতুন বিকাশের ফলে জেনারেটিভ এআই, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, ডিজিটাল টুইন, এজ কম্পিউটিং এবং মানব-কম্পিউটার মিথস্ক্রিয়ার মতো ক্ষেত্রও উচ্চশিক্ষায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

আরো পড়ুন: মৌমাছির ‘প্রাকৃতিক প্রযুক্তি’কোরআনের আয়াতে যে বিস্ময়কর ব্যবস্থার ইঙ্গিত

ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বিশ্বের অন্যতম পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল শাখা। এই বিষয়ের অধীনে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ, ইলেকট্রনিক সার্কিট, যোগাযোগব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও আধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি পড়ানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং, কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইনস্ট্রুমেন্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিষয় চালু রয়েছে।

এ ছাড়া মাইক্রোইলেকট্রনিকস, ভিএলএসআই ডিজাইন, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, সিগন্যাল প্রসেসিং, মাইক্রোওয়েভ ইঞ্জিনিয়ারিং, অপটিক্যাল কমিউনিকেশন, ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন, স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন, রাডার প্রযুক্তি ও ন্যানোইলেকট্রনিকসও আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মেকানিক্যাল ও উৎপাদন প্রকৌশল

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি, শক্তি, তাপ, তরল ও উৎপাদনব্যবস্থা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়। এই বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত শাখার মধ্যে রয়েছে মেকাট্রনিকস, ম্যানুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং।

বর্তমানে শিল্পকারখানায় স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনব্যবস্থা ও রোবট ব্যবহারের কারণে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে কম্পিউটার সায়েন্স, ইলেকট্রনিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় বাড়ছে। এর ফলে স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ এবং রোবটিকস নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

সিভিল ও অবকাঠামো প্রকৌশল

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিধিও অনেক বড়। ভবন, সেতু, সড়ক, রেলপথ, বাঁধ ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ও এই শাখার অন্তর্ভুক্ত।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধীনে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং, জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, কোস্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং, রিভার ইঞ্জিনিয়ারিং, হাইড্রলিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্থকোয়েক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিশেষায়িত বিষয় পড়ানো হয়।

কেমিক্যাল, জ্বালানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি

কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসায়নিক প্রক্রিয়া, উৎপাদনব্যবস্থা, শিল্পকারখানার নিরাপত্তা, পরিবেশ ও বিভিন্ন কাঁচামালের ব্যবহার নিয়ে এই বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি বায়োকেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং, পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং, পেট্রোকেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, পলিমার ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিষয়ও পড়ানো হয়।

আরো পড়ুন: এআই কি সত্যিই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে, কীভাবে?

বায়োমেডিক্যাল ও জীবপ্রযুক্তি

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। চিকিৎসা সরঞ্জাম, মেডিকেল ইমেজিং, কৃত্রিম অঙ্গ, বায়োমেডিক্যাল যন্ত্রপাতি ও স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি এ ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এর সঙ্গে বায়োইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, বায়োইনফরমেটিকস, কম্পিউটেশনাল বায়োলজি, টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিং, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, সিনথেটিক বায়োলজি ও নিউরোসায়েন্সের মতো বিষয় যুক্ত হয়েছে। চিকিৎসা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তঃবিষয়ক শিক্ষার পরিধি আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে।

পদার্থবিজ্ঞান, গণিত ও মৌলিক বিজ্ঞান

প্রযুক্তির ভিত্তি তৈরিতে মৌলিক বিজ্ঞানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পদার্থবিজ্ঞান, ফলিত পদার্থবিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং ফিজিকস, অ্যাস্ট্রোফিজিকস, নিউক্লিয়ার ফিজিকস, পার্টিকল ফিজিকস, কোয়ান্টাম ফিজিকস, কনডেন্সড ম্যাটার ফিজিকস, প্লাজমা ফিজিকস ও মেডিকেল ফিজিকস পড়ানো হয়।

গণিতের ক্ষেত্রেও রয়েছে গণিত, ফলিত গণিত, কম্পিউটেশনাল গণিত, পরিসংখ্যান, ফলিত পরিসংখ্যান, সম্ভাব্যতা, অপারেশনস রিসার্চ, নিউমেরিক্যাল অ্যানালাইসিস, অপ্টিমাইজেশন ও কম্পিউটেশনাল সায়েন্স।

রসায়নের ক্ষেত্রেও কেমিস্ট্রি, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি, বায়োকেমিস্ট্রি ও বিভিন্ন আন্তঃবিষয়ক বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

ম্যাটেরিয়ালস ও ন্যানোটেকনোলজি

আধুনিক প্রযুক্তির বড় একটি ভিত্তি হলো উন্নত উপাদান বা ম্যাটেরিয়াল। ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং, মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং, পলিমার সায়েন্স, ন্যানোম্যাটেরিয়ালস, সেমিকন্ডাক্টর ম্যাটেরিয়ালস ও বায়োম্যাটেরিয়ালস এ ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ন্যানোটেকনোলজি বর্তমানে চিকিৎসা, ইলেকট্রনিকস, শক্তি, কৃষি ও শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ফলে ন্যানোইঞ্জিনিয়ারিং, ন্যানোইলেকট্রনিকস, ন্যানোমেডিসিন ও কোয়ান্টাম ম্যাটেরিয়ালের মতো বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।

মহাকাশ ও বিমান প্রযুক্তি

মহাকাশ ও বিমান প্রযুক্তিও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার একটি বিশেষায়িত ক্ষেত্র। অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাস্ট্রোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, এভিওনিকস, প্রপালশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্লাইট কন্ট্রোল, স্পেস সিস্টেমস ও স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এ ক্ষেত্রে পড়ানো হয়।

নৌ ও সমুদ্র প্রযুক্তি

নৌযান নির্মাণ ও সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য নেভাল আর্কিটেকচার, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ওশান ইঞ্জিনিয়ারিং, অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং, মেরিটাইম ইঞ্জিনিয়ারিং, শিপবিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং ও কোস্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিষয় রয়েছে।

আরো পড়ুন: বিদেশের বাজারে বাংলাদেশি সফটওয়্যার, বাড়ছে প্রযুক্তি রপ্তানি

পরিবেশ, জলবায়ু ও টেকসই প্রযুক্তি

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে পরিবেশবিষয়ক প্রযুক্তির গুরুত্বও বেড়েছে। এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ক্লাইমেট সায়েন্স, অ্যাটমসফেরিক সায়েন্স, মেটিওরোলজি, হাইড্রোলজি, ওশান সায়েন্স, রিনিউএবল এনার্জি ও সাসটেইনেবল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিষয়ে এখন উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি

প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির বিস্তারের ফলে অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড টেকনোলজি, অ্যাগ্রিকালচারাল বায়োটেকনোলজি, প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার, স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার, কৃষি রোবটিকস ও অ্যাগ্রিকালচারাল ডেটা সায়েন্সের মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।

ভবিষ্যতের প্রযুক্তির বিষয়

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রমেও নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন, অ্যাডভান্সড রোবটিকস, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস, সিনথেটিক বায়োলজি, ফিউশন এনার্জি, অ্যাডভান্সড সেমিকন্ডাক্টর, স্পেস টেকনোলজি ও ন্যানোমেডিসিনের মতো ক্ষেত্র ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

তবে বিশ্বের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই নামে একই বিষয় পড়ানো হয় না। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিষয় আলাদা বিভাগ বা ডিগ্রি হিসেবে থাকে, আবার কোথাও সেটি অন্য বিভাগের অধীনে বিশেষায়ন বা কোর্স হিসেবে পড়ানো হয়। ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পুরো শিক্ষাক্ষেত্রকে শুধু কয়েকটি প্রচলিত প্রকৌশল বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা এখন ক্রমেই আন্তঃবিষয়ক হয়ে উঠছে। কম্পিউটার বিজ্ঞান যুক্ত হচ্ছে জীববিজ্ঞান, চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল ও অর্থনীতির সঙ্গে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহৃত হচ্ছে চিকিৎসা, পরিবহন, কৃষি ও শিল্পে। একইভাবে রোবটিকসের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার প্রকৌশল।

ফলে বর্তমান সময়ে একজন শিক্ষার্থী শুধু একটি প্রচলিত বিষয়ে ডিগ্রি নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না। একই সঙ্গে গণিত, প্রোগ্রামিং, ডেটা বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যোগাযোগপ্রযুক্তি ও গবেষণার মতো একাধিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও প্রযুক্তির পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নতুন বিষয় ও বিশেষায়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই বিস্তৃত ক্ষেত্র আগামী দিনের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও শিল্পের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, সাইবার নিরাপত্তা, রোবটিকস, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার গুরুত্বও আরও বাড়বে।