প্রযুক্তির ইতিহাসে কিছু বছর আসে, যেগুলোকে পরবর্তী সময়ে ফিরে তাকিয়ে ‘পরিবর্তনের সময়’ হিসেবে মনে হয়। ২০২৬ সালও তেমন একটি বছর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের পাশাপাশি শক্তি, চিকিৎসা, খাদ্য, পরিবেশ, ওষুধ আবিষ্কার ও সাইবার নিরাপত্তায় একের পর এক নতুন প্রযুক্তি বাস্তব প্রয়োগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এসব উদ্ভাবনের কিছু হয়তো এখনো গবেষণা বা প্রাথমিক বাণিজ্যিক পর্যায়ে, কিন্তু আগামী কয়েক বছরে এগুলো মানুষের জীবনযাপন ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF) ২০২৬ সালের উদীয়মান প্রযুক্তির তালিকায় এমন ১০টি প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়েছে, যেগুলোর বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনার পাশাপাশি বাস্তব বিশ্বের বড় সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকট থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, খাদ্য নিরাপত্তা, ক্যানসার চিকিৎসা এবং কোয়ান্টাম যুগের সাইবার নিরাপত্তা—বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসব প্রযুক্তি নতুন পথ দেখাচ্ছে।
১. এভরিথিং-টু-গ্রিড: বিদ্যুৎব্যবস্থায় আসছে নতুন যুগ
বৈদ্যুতিক গাড়ি, বাড়ির ব্যাটারি, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র সাধারণত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। কিন্তু ‘এভরিথিং-টু-গ্রিড’ প্রযুক্তির ধারণা হলো—এসব ডিভাইস প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহও করতে পারবে।
ধরা যাক, একটি বাড়িতে সৌর প্যানেল ও বড় ব্যাটারি রয়েছে। দিনের বেলায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা হলো। সন্ধ্যায় যখন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে, তখন সেই ব্যাটারি শুধু বাড়ির বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাবে না; নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিডেও বিদ্যুৎ দিতে পারবে।
বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। লাখ লাখ গাড়ির ব্যাটারি একটি বিশাল ‘distributed energy storage’ হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে নবায়নযোগ্য শক্তির ওঠানামা সামলানো এবং বিদ্যুৎ গ্রিডকে আরও স্থিতিশীল করা সম্ভব হতে পারে।
২. ডাইরেক্ট লিথিয়াম এক্সট্রাকশন: ব্যাটারির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে যে প্রযুক্তি
বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও বিভিন্ন ধরনের শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে লিথিয়ামের চাহিদাও বেড়ে চলেছে।
কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতিতে লিথিয়াম উত্তোলনে সময়, পানি ও জমির বড় প্রয়োজন হতে পারে। ডাইরেক্ট লিথিয়াম এক্সট্রাকশন বা DLE প্রযুক্তি ব্রাইন বা লবণাক্ত ভূগর্ভস্থ পানি থেকে তুলনামূলক দ্রুত লিথিয়াম আলাদা করার সুযোগ তৈরি করছে।
প্রযুক্তিটি ব্যাপকভাবে সফল হলে লিথিয়াম সরবরাহ বাড়ানো, উত্তোলনের পরিবেশগত প্রভাব কমানো এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এর ক্ষেত্রেও পরিবেশগত প্রভাব, পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির অর্থনৈতিক কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
৩. প্যাসিভ রেডিয়েটিভ কুলিং: বিদ্যুৎ ছাড়াই ঠান্ডা রাখার চেষ্টা
বিশ্বের উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহারও বাড়ছে। কিন্তু AC চালাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন, যা আবার গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বাড়াতে পারে।
এখানে সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে প্যাসিভ রেডিয়েটিভ কুলিং। বিশেষ ধরনের উপাদান ব্যবহার করে কোনো পৃষ্ঠের তাপ সরাসরি আকাশের দিকে বিকিরণ করা যায়। ফলে সূর্যের আলো থেকে যতটা তাপ শোষিত হয়, তার চেয়ে বেশি তাপ বিকিরণের মাধ্যমে বের করে দিয়ে পৃষ্ঠকে ঠান্ডা রাখা সম্ভব হতে পারে।
ভবনের ছাদ, দেয়াল, খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা এমনকি কিছু ধরনের পোশাকেও ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা যেতে পারে।
উষ্ণ জলবায়ুর দেশগুলোতে এর গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি। কারণ এটি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভবন শীতল রাখার নতুন উপায় তৈরি করতে পারে।
৪. PFAS ধ্বংস প্রযুক্তি: ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ মোকাবিলায় নতুন আশা
PFAS বা per- and polyfluoroalkyl substances দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশে টিকে থাকতে পারে বলে এগুলোকে প্রায়ই ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ বলা হয়। বিভিন্ন শিল্পপণ্য ও ভোক্তা পণ্যে দীর্ঘদিন এসব রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়েছে।
সমস্যা হলো, পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার পর PFAS সহজে ভেঙে যায় না। ফলে পানি, মাটি ও পরিবেশগত ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি দূষণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
নতুন প্রযুক্তিগুলো PFAS-এর অত্যন্ত শক্তিশালী কার্বন-ফ্লোরিন বন্ধন ভেঙে ক্ষতিকর রাসায়নিককে ধ্বংস করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
যদি এই প্রযুক্তি কম খরচে বড় পরিসরে প্রয়োগযোগ্য হয়, তাহলে দূষিত পানি পরিশোধন ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।
৫. প্রিসিশন ফারমেন্টেশন: খাবার উৎপাদনে নতুন বিপ্লব
প্রযুক্তির আরেকটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে খাবারের টেবিলে। প্রিসিশন ফারমেন্টেশন এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে নির্দিষ্ট অণুজীবকে জেনেটিকভাবে প্রোগ্রাম করে দুধের প্রোটিন, ডিমের প্রোটিনসহ নানা খাদ্য উপাদান তৈরি করা যায়।
এর অর্থ হলো, প্রাণী পালন না করেও প্রাণিজ খাদ্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনে জমি, পানি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে প্রযুক্তিটির ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে খাদ্যের নিরাপত্তা, মূল্য, ভোক্তার গ্রহণযোগ্যতা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো বড় বিষয় হয়ে থাকবে।
৬. এক্সোসোম ড্রাগ ডেলিভারি: শরীরের ভেতরেই ওষুধের নির্দিষ্ট গন্তব্য
ওষুধ আবিষ্কারের পাশাপাশি কীভাবে ওষুধকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটিও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
এক্সোসোম হলো কোষ থেকে নিঃসৃত ক্ষুদ্র কণিকা, যা কোষের মধ্যে তথ্য ও বিভিন্ন জৈব উপাদান পরিবহনে ভূমিকা রাখে। গবেষকেরা এখন এক্সোসোমকে সম্ভাব্য ‘ডেলিভারি ভেহিকল’ হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন।
ধারণাটি সফল হলে নির্দিষ্ট রোগাক্রান্ত কোষ বা টিস্যুতে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া সহজ হতে পারে। বিশেষ করে ক্যানসার ও বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় এটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এটি এখনো একটি দ্রুত বিকাশমান ক্ষেত্র। নিরাপত্তা, কার্যকারিতা, উৎপাদন এবং নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই আরও গবেষণা প্রয়োজন।
৭. ব্যক্তিকেন্দ্রিক mRNA ক্যানসার ভ্যাকসিন: রোগীর জন্য রোগীরই চিকিৎসা
ক্যানসারের চিকিৎসায় ‘একটি ওষুধ সবার জন্য’ ধারণা ক্রমেই বদলাচ্ছে। কারণ একই ধরনের ক্যানসার হলেও বিভিন্ন রোগীর টিউমারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হতে পারে।
ব্যক্তিকেন্দ্রিক mRNA ক্যানসার ভ্যাকসিনের ধারণা হলো—প্রথমে রোগীর টিউমারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে এমন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করা হবে, যা রোগীর প্রতিরোধব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট ক্যানসার কোষ শনাক্ত করার জন্য প্রস্তুত করবে।
mRNA প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির কারণে এই ধরনের চিকিৎসা নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। ভবিষ্যতে এটি ক্যানসার চিকিৎসায় আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও লক্ষ্যভিত্তিক পদ্ধতির পথ খুলে দিতে পারে।
তবে প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা চিকিৎসা তৈরির খরচ, সময় এবং চিকিৎসা অবকাঠামো বড় চ্যালেঞ্জ।
৮. ওষুধ আবিষ্কারে কোয়ান্টাম সিমুলেশন
কোয়ান্টাম কম্পিউটিংকে দীর্ঘদিন ধরেই ভবিষ্যতের প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন এর সম্ভাব্য ব্যবহারগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ওষুধ আবিষ্কার।
মানবদেহে ওষুধ কীভাবে অণু ও পরমাণুর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে, তা অত্যন্ত জটিল। প্রচলিত কম্পিউটার দিয়ে এসব আচরণ নিখুঁতভাবে সিমুলেট করা কঠিন হতে পারে।
কোয়ান্টাম কম্পিউটার ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট ধরনের রাসায়নিক ও অণুর আচরণ সিমুলেশনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এতে সম্ভাব্য ওষুধের কার্যকারিতা আগে থেকেই বিশ্লেষণ করা এবং নতুন ওষুধ তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এখনো দ্রুত বিকাশমান। প্রযুক্তিটিকে বাস্তব ও ব্যাপক ব্যবহারের উপযোগী করতে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি প্রয়োজন।
৯. ওয়ার্ল্ড মডেল: AI কি এবার বাস্তব পৃথিবী বুঝবে?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরবর্তী বড় ধাপ হিসেবে আলোচনায় এসেছে ‘ওয়ার্ল্ড মডেল’। সাধারণ AI মূলত বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে উত্তর বা পূর্বাভাস তৈরি করে। ওয়ার্ল্ড মডেলের লক্ষ্য আরও এক ধাপ এগিয়ে বাস্তব পৃথিবীর নিয়ম, বস্তু, পরিবেশ ও ঘটনাগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে একটি অভ্যন্তরীণ মডেল তৈরি করা।
এই প্রযুক্তির বড় ব্যবহার হতে পারে রোবোটিক্সে। একটি রোবট যদি শুধু কোনো নির্দেশ অনুসরণ না করে বরং আশপাশের পরিবেশ বুঝে সম্ভাব্য ফলাফল অনুমান করতে পারে, তাহলে সেটি আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।
স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, শিল্প রোবট, জলবায়ু মডেলিং, ভার্চুয়াল সিমুলেশন ও বিভিন্ন ধরনের AI এজেন্টে ওয়ার্ল্ড মডেলের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে AI যত বেশি স্বয়ংক্রিয় হবে, ভুল সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
১০. ল্যাটিস-ভিত্তিক ক্রিপ্টোগ্রাফি: কোয়ান্টাম যুগে তথ্যের নিরাপত্তা
ডিজিটাল বিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্পদগুলোর একটি হলো তথ্য। ব্যাংকিং, স্বাস্থ্য, সরকারি নথি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত যোগাযোগ—সবকিছুই এখন এনক্রিপশনের ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার ভবিষ্যতে বর্তমানের কিছু প্রচলিত এনক্রিপশন পদ্ধতি ভেঙে দিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখন থেকেই ‘পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি’ নিয়ে কাজ চলছে।
ল্যাটিস-ভিত্তিক ক্রিপ্টোগ্রাফি এই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। এর লক্ষ্য হলো এমন গাণিতিক সমস্যা ব্যবহার করা, যা প্রচলিত ও সম্ভাব্য কোয়ান্টাম কম্পিউটার—দুই ধরনের আক্রমণের বিরুদ্ধেই শক্তিশালী থাকবে।
ভবিষ্যতের ব্যাংকিং, সরকারি তথ্যব্যবস্থা, সামরিক যোগাযোগ এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কোথায়?
২০২৬ সালের আলোচিত প্রযুক্তিগুলোর দিকে তাকালে একটি বিষয় পরিষ্কার—প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ এখন আর শুধু দ্রুতগতির কম্পিউটার, নতুন স্মার্টফোন বা উন্নত গ্যাজেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
নতুন প্রযুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিচ্ছন্ন শক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা, রোগের চিকিৎসা, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, ওষুধ আবিষ্কার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মতে, উদীয়মান প্রযুক্তির প্রকৃত মূল্য শুধু বৈজ্ঞানিক অভিনবত্বে নয়; এগুলো বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে পারে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এসব প্রযুক্তির সুফল যেন কেবল উন্নত দেশ বা বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্যও এসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। নবায়নযোগ্য শক্তি, স্মার্ট গ্রিড, খাদ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান ও শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালের প্রযুক্তি আমাদের শুধু ‘ভবিষ্যৎ কেমন হবে’ তা দেখাচ্ছে না—বরং সেই ভবিষ্যৎ তৈরির কাজও শুরু করে দিয়েছে। আগামী দশকে কোন প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে, তার উত্তর হয়তো আজই নিশ্চিত নয়। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত: AI, কোয়ান্টাম, বায়োটেক, পরিচ্ছন্ন শক্তি ও স্মার্ট প্রযুক্তির মিলনেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের পৃথিবী।